বুলবুলের জের

সুন্দরবনে নভেম্বরে সীমিত পর্যটন

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৯

খুলনা অফিস

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের জেরে চলতি নভেম্বর মাস জুড়ে সুন্দরবনে সীমিত আকারে পর্যটন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিন পর্যটন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় খুলনার বন ভবনে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সঙ্গে বন বিভাগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল মামুন জানান, পানিতে যেহেতু কোনো সমস্যা নেই, তাই জেলেদের জন্যও পাশ পারমিট দেওয়া হবে।

খুলনার বন সংরক্ষক (সিএফ) মঈনুদ্দিন খান বলেন, ‘সুন্দরবনে আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সীমিত আকারে পর্যটন চলবে। কারণ, রাস মেলার আগে ট্যুর অপারেটররা পর্যটক বুকিং নিয়েছিলেন। সেগুলো ছাড়ার জন্যই নভেম্বর মাসে পর্যটন সীমিত করা হচ্ছে। আর ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বর এ তিন দিন পর্যটন বন্ধ রাখা হবে।’

তিনি বলেন, ইলিশ নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেদের দুই দফায় মাছ শিকার বন্ধ ছিল। এ কারণে জেলেদের জন্য মঙ্গলবার থেকে পাশ পারমিট দেওয়া চালু করা হয়েছে।

সভায় বন সংরক্ষক (খুলনা) মো. মঈনুদ্দিন খান, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, ট্যুর অপারেটর অব সুন্দরবনের আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম জমাদ্দার, যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল আজম ডেভিডসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য গত সোমবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে। সুন্দরবন বন বিভাগের ৬৩টি ক্যাম্পের কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছেন।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, গত শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের ১৭টি স্টেশন অফিস ও ৩৭টি ইউনিট এবং পূর্ব বন বিভাগের ছয়টি আবাসিক, ১৭টি অনাবাসিক, ১৯টি ওয়াচ টাওয়ার ও তিনটি জলযান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় সুন্দরবনের গাছপালা ভেঙে গেছে। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বা কোনো বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।