পাখির জন্য বরাদ্দ চাইলেন ডিসি

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪৮

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দবাউসা গ্রামের সেই আমবাগানে বাসা বাঁধা অতিথি পাখি শামুকখোলের বাসা ভাড়ার জন্য বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়েছে জেলা প্রশাসন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে এই টাকা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলে তা প্রতি বছর আমবাগানের মালিক বা ইজারাদারকে দেওয়া হবে। যত দিন ইচ্ছে পাখিগুলো ঐ বাগানে বাঁধা বাসায় থাকবে। আর সরকার তাদের ‘বাসাভাড়া’ বাবদ ব্যয় বহন করবে। বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের আদেশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা গ্রামের আমবাগানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সেখানে মোট ৩৮টি গাছে শামুকখোল পাখি বাসা বেঁধেছে। ঐ গাছগুলোতে বছরে কী পরিমাণ আম ধরে এবং তা না হলে কেমন ক্ষতি হবে, তা নিরূপণের চেষ্টা করেছি।

কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ আরো বলেন, বাগানের মালিক পক্ষ, ইজারাদার, স্থানীয় জনগণ, আম ব্যবসায়ীসহ সকল পক্ষের হিসেব অনুযায়ী পাখির বাসা সেখানে থাকলে বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতি হতে পারে। সে অনুযায়ী আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠাই। সেটি গত সোমবার (১১ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক যাচাই করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। বরাদ্দের অনুমোদন পেলে তা বাগান মালিক অথবা ইজারাদারকে দেওয়া হবে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ছিল, সে অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তারা বাগানটিতে সার্ভে করে এই হিসেব বের করেছেন। সেটি প্রতিবেদন আকারে আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

জানা যায়, বাঘা উপজেলার খোর্দ্দবাউসা গ্রামের ঐ বাগানটি গত চার বছর ধরে শামুকখোল পাখি এসে বাসা বেঁধে আছে। এদিকে, পাখি বাসা বাঁধায় গত দুই বছর পাখির জন্য বাগান পরিচর্যা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আমের ফলন কম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাগান ইজারা নেওয়া আম ব্যবসায়ী আতাউর রহমান।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক বসে। সেখানে ইজারাদার আতাউর রহমান পাখিরা ১৫ দিনের মধ্যে চলে না গেলে তিনি পাখি তাড়িয়ে দেবেন বলে ‘আলটিমেটাম’ দেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়ার আরজি জানান একজন আইনজীবী। আদালত শুনানি শেষে ‘বাগানের পাখির বাসা কোনোভাবে ভাঙা যাবে না’ বলে আদেশ দেন। একই সঙ্গে বাগান মালিকের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণ করে, তা প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে নির্দেশ দেন।