বুলবুলের প্রভাবে রায়পুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪৮

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে রায়পুরের উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী, চরআবাবিল ও চরমোহনা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এছাড়া এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে রবিবার দুপুর থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

সরেজমিনে ঐসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই দিন টানা বৃষ্টি হলেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হননি। এছাড়ও দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বাসাবাড়িগুলোতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। দমকা হাওয়ার কারণে জমির আধাপাকা আমন ধান মাটি ও পানিতে হেলে পড়েছে। এতে কৃষকরা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

চরইন্দুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মোতাল্লেব মিয়া জানান, মেঘনা নদীর পাশে থাকা সবজিখেতগুলো জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে মরিচ, ডালসহ সবজিখেতে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে পানি না নামলে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বুলবুলের প্রভাবে খেতের আধাপাকা ধানের অনেক ক্ষতি হবে। এছাড়া অন্যান্য ফসলসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার আমন ধানের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে ক্ষতি কমাতে আক্রান্ত খেতের ফসল তুলে ফেলা ও জলাবদ্ধ জমিতে দ্রুত সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। এছাড়াও দুই একদিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হবে।

রায়পুর পল্লী বিদ্যুত্ অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শেখ মোনোয়ার মোরশেদ বলেন, রবিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে দুটি খুঁটি, চারটি ট্রান্সফরমাসহ অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে প্রায় ৫২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুত্ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তবে রাতেই পৌরশহরে বিদ্যুত্ সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে বিদ্যুত্ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে।