বাধ্য হয়েই অধিকাংশ লোক দেশের বাইরে যায় কাজ করতে। দেশে যারা মূল্যবান রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে, তাদের কথা কি আমরা কখনো ভাবি! তাদের জন্য ভাষা ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা গেলে তাদের মঙ্গলের পাশাপাশি দেশেরও মঙ্গল হতো। যে লোক দেশে কোনো কাজ পারে না, মাটি কাটে সে বিদেশে গিয়ে। এইসব অদক্ষ শ্রমিক আর কী কাজে লাগবে? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো দরকার। বর্তমান ব্যবস্থায় আমরা কী বের করছি! এরা না কাজ জানে, না পড়ালেখা জানে। এরা তথাকথিত শিক্ষিত বেকার। এই যুগে কাজ নেই কর্মসংস্থানের অভাব—এসব বলা সাজে না। পুরো বিশ্বের দুয়ার খোলা। কাজ জানলে কাজের অভাব হয় না। অথচ আমরা এসব না ভেবে বিদেশে শুধু শ্রমিক পাঠাচ্ছি। এই অদক্ষ শ্রমিকেরা বিদেশে দাসের মতো ব্যবহূত হচ্ছে। আমাদের শ্রমিকরা না জানে কাজ, না ভাষা। ফলে এদের ওপর চলে অকথ্য নির্যাতন। তবু দেশে এত টাকা দেনা করে গিয়েছে, তা তুলতে সহ্য করে যায়। ছেলেদের বেলায় তা মানা যায়। কিন্তু নারী শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে কোন যুক্তিতে! এদের অহেতুক কেন বিপদের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে? ওদের আর্তনাদ আমাদের ব্যথিত করে। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ—দক্ষ না করে মেয়েদের দয়া করে বিদেশে পাঠাবেন না। দক্ষ করে গড়ে তুলুন, তারপর না হয় পাঠান।
সিরাজুল মুস্তফা
চট্টগ্রাম
