এ বছর আয়কর রিটার্ন ৩০ লাখে উন্নীত করতে চায় এনবিআর

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৩

কাল শুরু হচ্ছে আয়কর মেলা

g ইত্তেফাক রিপোর্ট

গত করবর্ষে প্রায় ২২ লাখ করদাতা তাদের আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিল করেছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আশা করছে, চলতি করবর্ষে রিটার্ন দাখিল ৩০ লাখে উন্নীত হবে। সে হিসেবে এবার রিটার্ন দাখিলকারী বাড়বে প্রায় ৪০ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে আয়কর মেলা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন এমন আশার কথা জানিয়েছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশব্যাপী শুরু হতে যাওয়া আয়কর মেলা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ঐ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের আয়কর বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে  মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, দেশে অন্তত ৪ কোটি মানুষের আয়কর দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। তবে ১ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে আয়কর দেন। যেমন অনেকে ব্যাংকে মুনাফা কিংবা অন্য অনেক উপায়ে আয়কর দেন। রিটার্ন দাখিল না করায় তাদের অন্য আয়ের ওপর কর আদায় করা সম্ভব হয় না।

এ সময় কর আদায়ে বিদ্যমান অবস্থা ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ২০ তারিখে মেলা শেষ হওয়ার পরও আয়কর অফিসেও ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে মেলার মতো সুবিধা থাকবে। করদাতাদের যাতে হয়রানি না করা হয়, এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। হয়রানি রোধে আমরা আপসহীন। কর্মকর্তাদের কোনো অসঙ্গতি বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে কঠোর হাতে দমন করি। এ ধরনের কিছু পাওয়া গেলে কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করতে চাইলে আমরা তাদেরও সহায়তা করি।

এ সময় তিনি ম্যানুয়াল পদ্ধতির রিটার্ন দাখিল থেকে আগামী দুই বছরের মধ্যে বের হয়ে আসার কথা জানান। তিনি বলেন, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল ম্যানুয়াল থাকবে না। বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনভিত্তিক রিটার্ন দাখিল হবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া স্বনামধন্য অ্যাকাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ঐ ফার্মের কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে একটি নীতিমালা করা হবে। সেই সেঙ্গ ‘বুক্স অব অ্যাকাউন্টিং’ (নির্ধারিত পদ্ধতিতে হিসাব রক্ষণ) এর প্রবণতাও শুরু করা হবে। বিদেশি কোম্পানিগুলো হিসাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিময় মানলেও স্থানীয় কোম্পানিগুলো ঠিকমতো হিসাব রাখে না বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের এক হিসাব আর কর প্রদানের জন্য আরেক ধরনের হিসাব রাখা হয়।

বর্তমানে দেশব্যাপী আয়কর জরিপে কিছু এলাকায় ভীতি ছড়িয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ জানালেও এর সঙ্গে একমত নন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জরিপে যাদের করযোগ্য আয় রয়েছে, কেবল তাদের ই-টিআইএন নেওয়ার জন্য বিনয়ের সঙ্গে বলা হচ্ছে।

রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব না আসার পেছনে কিছু কারণ থাকতে পারে। তবে গত অর্থবছরেও রাজস্ব আদায় ২৩ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে; কিন্তু শতাংশের হিসাবে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, আয়কর না দিলে আল্লাহর কাছে দায়ী থাকবেন।

 আয়কর মেলা :

অতীতের মতো এবারও দেশের সব বিভাগীয় শহরে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে। জেলায় চার দিন আর নির্ধারিত কিছু উপজেলায় দুই দিন ও এক দিন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় রিটার্ন দাখিল, কর পরিশোধ, নতুন ই-টিআইএন খোলা যাবে। এ ছাড়া করসংক্রান্ত যে কোনো সেবা মেলা থেকে পাওয়া যাবে। রাজধানীতে মেলা অনুষ্ঠিত হবে বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে। এবারের মেলায় মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে কর প্রদান ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে ইউ পে, বিকাশ, নগদ, রকেট, শিওর ক্যাশের মতো ব্যবস্থায় অনলাইনে কর পরিশোধ করা যাবে। এছাড়া aykormela.gov.bd নামে ওয়েবসাইট থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।