সৌদিতে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের দাবি

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:৩৭

স্বাধীন বাংলাদেশের মর্যাদা ও নারীদের সম্ভ্রম রক্ষা করতে না পারলে প্রয়োজনে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে তিন জন সংসদ সদস্য এই দাবি জানান। এ সময় সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নকারী এমপিদের সমালোচনার মুখে পড়েন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের সমস্যার বিষয়টি নিয়ে সরকারও চিন্তিত। তাদের প্রশিক্ষণসহ নানা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর একেবারেই সম্ভব না হলে তখন নারীকর্মী না পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সম্পূরক প্রশ্নে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘বলা হচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশে কর্মী পাঠায়। তাহলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বটা কী? মা-বোনদের আমরা পাঠিয়ে দিচ্ছি। ওখান থেকে যৌন নির্যাতনসহ নানারকম অন্যায়-অত্যাচারের শিকার হয়ে অবশেষে লাশ হয়ে দেশে ফিরে আসেন। তাদের সবারই পোস্টমর্টেমে লেখা থাকে স্বাভাবিক মৃত্যু। ওখানে পোস্টমর্টেম যেটা হয়, সেটাও বাংলাদেশ দূতাবাস দেখে না। মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয় না। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পাঠিয়েই খালাস। কেন কয়েকটি টাকার জন্য তাদের পাঠাতে হবে? আইন সংশোধন করে নারীদের সৌদি আরবে যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে এটা করতে হবে।’

জাপার মুজিবুল হক চুন্নু সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার ও যৌন নির্যাতন করা হয়। তিনি নারীকর্মীদের যৌন নির্যাতন বন্ধ করে ইজ্জত-সম্মান নিয়ে চাকরিসহ বেতন নিশ্চিত করার পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চান। সম্পূরক প্রশ্নে গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, দেশের মানমর্যাদা ও ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে নারী শ্রমিক না পাঠিয়ে পুরুষ শ্রমিককে দ্বিগুণভাবে পাঠানো হোক। এতে দেশের মান-ইজ্জতও বাঁচবে। না হলে দাসত্বের বাংলাদেশে পরিণত হতে হবে।

এসব বক্তব্যের জবাবে মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, আমাদের চেষ্টা থাকবে নারীরা যেন সম্মানজনকভাবে চাকরি করতে পারেন। আর একেবারেই যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আমরা না পাঠানোর চিন্তা করব। তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে ১৬০টি ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত, তিনটি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। দোষীদের জরিমানা করা হয়েছে। সরকার জিরো টলারেন্সে আছে। কয়েকদিন আগে ঢাকাস্থ সৌদি আরব দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সৌদি আরবে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঐ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এগুলো তোলার জন্য। ২৬ থেকে ২৭ নভেম্বর সৌদি আরবে জয়েন্ট টেকনিক্যাল গ্রুপের বৈঠকেও এই প্রশ্নগুলো তোলা হবে।

জাপার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ইমরান আহমদ জানান, মালয়েশিয়া সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ শ্রমিক প্রেরণকারী সব দেশ থেকে দেশটিতে কর্মী নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। খুব শিগিগরই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে।