উপকথা

বন্ধু যখন প্রয়োজন

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৭

আহমেদ জসিম

 

চার বন্ধুর মধ্যে চমত্কার বোঝাপড়া। পশুপাখির মধ্যে অমন গভীর বন্ধুত্ব ভাবাই যায় না। চকচকে কালো কাক বাস করত একটি গাছের ডালে। শক্তপোক্ত খোলসের কচ্ছপের বসবাস ছিল গাছটির নিচের পুকুরে। ছোট্ট বাদামি ইঁদুর গাছটির নিচে গর্ত খুঁড়ে তাতে বাস করত। বড়ো বড়ো চোখঅলা সোনালি চামড়ার হরিণ থাকত পুকুরপাশের বনে। সে প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্যে পুকুরপাড়ে আসত।

এক সকালবেলায় তারা মিলনমেলার আয়োজন করল। হরিণ বাদে বাকি তিনজনই সময়মতো গাছতলার মিলনমেলায় হাজির হলো। কিন্তু হরিণ এলো না। তারা ভাবল হরিণের নিশ্চয়ই কোনো বিপদ হয়েছে। তার খোঁজখবর নেয়া দরকার। কাককে দায়িত্ব দেয়া হলো হরিণ কোথায় কিভাবে আছে তা খুঁজে বের করতে।

কথা অনুযায়ী কাক বনের মধ্যে উড়ে উড়ে হরিণের খোঁজ করতে লাগল। সহসাই তার চোখে পড়ল এক জায়গায় হরিণটি শিকারির জালে আটকা পড়ে আছে। হরিণের দুরবস্থা দেখে সে ভীষণ কষ্ট পেল। তাড়াতাড়ি মিলনমেলায় ফিরে গিয়ে বাকি দুই বন্ধুকে সে বিষয়টি জানাল। তিন বন্ধু আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিল যেভাবেই হোক তারা হরিণকে মুক্ত করবে।

প্রথমে ইঁদুর প্রস্তাব করল সে শিকারির জাল কেটে ফেলবে। কাক ইঁদুরকে নিজের পিঠে বসিয়ে উড়িয়ে শিকারির ফাঁদের কাছে নিয়ে গেল। সেখানে পৌঁছেই ইঁদুর তার ধারালো দাঁত দিয়ে শিকারির জাল কাটা শুরু করল। অল্প সময়ের মধ্যে জাল কাটা শেষ হলো এবং হরিণ ফাঁদ থেকে মুক্ত হলো। ততক্ষণে কচ্ছপও সে জায়গায় পৌঁছে গেল। তারা একযোগে গলা উঁচিয়ে তাদের বন্ধুর মুক্তি উদ্যাপন করল। এদিকে সহসাই তারা কারো পায়ের শব্দ শুনতে পেল। তাদের বুঝতে বাকি রইল না যে শিকারিই ফিরে আসছে।

কাক চট করে উড়াল দিল। ইঁদুর দ্রুত পাশের একটি গর্তে লুকিয়ে পড়ল। হরিণ চোখের পলকে বনের মধ্যে গা ঢাকা দিল। কেবল ধীরগতির কচ্ছপটিই রয়ে গেল সেখানে। শিকারি এসে হরিণটিকে দেখতে না পেয়ে চেঁচিয়ে বলল, ‘হায় হায়, সর্বনাশ হয়ে গেছে! আমার ফাঁদ থেকে হরিণ যে পালিয়ে গেল।’ এরপর তার চোখ পড়ল কচ্ছপের ওপর। সে খুশিতে ডগমগ হয়ে বলল, ‘যাই হোক, আজ অন্তত পেট পুরে এই বিরাট কচ্ছপের সুস্বাদু মাংস খাওয়া যাবে।’ শিকারি চটজলদি কচ্ছপটিকে জালে পেঁচিয়ে নিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়াল।

দূর থেকে কচ্ছপের বিপদ দেখে হতবুদ্ধি হয়ে গেল তিন বন্ধু। তারা কচ্ছপকে উদ্ধারে ঝটপট ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। হরিণ চট করে শিকারির সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। শিকারি কচ্ছপকে মাটিতে ফেলে রেখে হরিণকে ধরার জন্যে তাড়া করল। ইঁদুর এ সুযোগে শিকারির জাল কেটে কচ্ছপকে বের করে আনল।

কচ্ছপ মুক্ত হয়ে দ্রুত হামাগুড়ি দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে গেল। এদিকে হরিণও প্রাণপণে ছুটে গিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিল।

এভাবে চার বন্ধু সকল বিপদ থেকে মুক্ত হলো এবং আবার সুখে বসবাস করতে লাগল।

প্রাচীন ভারতীয় উপকথা অবলম্বনে