হুমায়ূন আহমেদের জীবদ্দশায় তার ৬০তম জন্মদিন থেকে শুরু হয়েছিল তার লেখা বই নিয়ে একক বইমেলা। সেই ধারাবাহিকতায় তার ৭১তম জন্মদিনেও শুধু হুমায়ূন আহমেদের বই নিয়ে শুরু হয়েছে ‘হুমায়ূন আহমেদ একক বইমেলা। হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের প্রকাশকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় অংশ নিচ্ছে অন্যপ্রকাশ, অবসর, কাকলী, সময় প্রকাশন, অনন্যা, পার্ল, অন্বেষা, আফসার ব্রাদার্স, জ্ঞানকোষ, শিখা প্রকাশনীসহ মোট ১৪টি প্রকাশনী।
গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধনী আয়োজন ছিল গতকাল বুধবার। মেলার উদ্বোধক ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। প্রধান অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন। বেলুন উড়িয়ে মেলার এ উদ্বোধনী আয়োজনে আরো অংশ নেন হুমায়ূন আহমেদের ছোটোভাই ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব, কবি কাজী রোজী, অভিনেতা ফারুক আহমেদ, ছড়াকার আসলাম সানী, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।
মেহের আফরোজ শাওন বলেন, শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদের কথা অনেকেই বলেন। তিনি আমাদের শিক্ষা বিস্তারে নানা সময়ে বলেছেন। তার একটি স্বপ্ন ছিল একটি স্কুল নির্মাণ। কেন্দুয়ার কুতুবপুরে শহিদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ তার হাত ধরে পথচলা শুরু করে ২০০৬ সালে। সেই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়েছে। আমরা হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান এবার শুরু করেছি সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
ইমদাদুল হক মিলন বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আমাদের একটি আড্ডার দল ছিল। আমরা প্রায় দিন সন্ধ্যায় আড্ডা দিতাম, গল্প করতাম, নানা রকম আয়োজন থাকত। আহসান হাবীব বলেন, হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিকর্ম নতুন করে আমাদের আর পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বব্যাপী গ্রাফিক নোবেল এখন একটি জনপ্রিয় বিষয়। আমরা হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিকর্মকে গ্রাফিক নোবেলের মাধ্যমে উপস্থাপন করে নতুন কিছু সংযোজন করতে পারি। এ মেলা চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
চ্যানেল আই-সিটি ব্যাংক ‘হুমায়ূন মেলা’ উদ্যাপিত :কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিনে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো হুমায়ূন মেলা। এ সময় হলুদ পাঞ্জাবি আর নীল শাড়ি পরা অসংখ্য হিমু ও রূপাদের সঙ্গে নিয়ে হলুদ বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় গান করেছেন আকরামুল ইসলাম, সেলিম চৌধুরী, তপন চৌধুরী, এস আই টুটুল, দিনাত জান্নাত মুন্নী, সেরাকণ্ঠ, বাংলার গান এবং গানের রাজার শিল্পীরা। আবৃত্তি করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও আসলাম সানী প্রমুখ। হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে চিত্রাঙ্কন করেছে বিভিন্ন বয়সি শিশুরা। মেলা সরাসরি সম্প্রচার করেছে চ্যানেল আই।
