বন্ড সুবিধায় আমদানি হওয়া সুতা ও কাপড় চোরাই পথে বিক্রি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি বন্ডের কাপড়ের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু পুরোনো ঢাকার চকবাজার ও আশেপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ কাপড় ধরা পড়ে। এর পর চোরাই কাপড়ের কারবারিরা সতর্ক হয়ে তাদের কৌশল পালটেছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকার বাইরেও অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে এনবিআর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ঐ টাস্কফোর্সে বন্ড কমিশনারেট অফিসের এ ধরনের অভিযান পরিচালনায় দক্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার প্রথমবারের মতো এই দল ঢাকার বাইরে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার সুতা বিক্রির প্রসিদ্ধ হাট সোহাগপুর বাজারে অভিযান চালায়। প্রথম দিনেই এই এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বন্ড সুবিধায় আনা সুতা ধরা পড়েছে।
এনবিআরের কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট অফিস সূত্র জানিয়েছে, অভিযানে ৩৮ মেট্রিক টন সুতা আটক করা হয়েছে। চিহ্নিত করা হয়েছে দুই আমদানিকারককে। এছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই চক্রের আরো বেশ কয়েকজনের তথ্য মিলেছে। গত পাঁচ বছর ধরে বন্ড সুবিধার আওতায় সুতা আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রি করছে এই চক্র।
ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর ইত্তেফাককে বলেন, এই প্রথম ঢাকার বাইরে অভিযান চালিয়ে সুতা আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় শুধু গোডাউনের মালিক বা ক্রেতা নয়, যেসব উত্স থেকে এসব সুতা চোরাইপথে আসে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এই ধরনের অভিযান রাজধানীর বাইরে অন্য জায়গায়ও অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামপুরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কাপড় আটকের পর বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান ও চোরাকারবারিরা তাদের কৌশল পালটে এখন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার সোহাগপুর বাজার ও তামাই গ্রামের শামিম শেখের গোডাউনে সুতা বিক্রি হয় বলে আমাদের কাছে খবর ছিল। আজ (বুধবার) সকাল থেকে আমরা কিছু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাই। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ টন সুতা পাই। দুটি গার্মেন্টস কারখানা এসব সুতা বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা হয়েছিল। এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ঐ দুটি গার্মেন্টস কারখানাকে সনাক্ত করা গেছে। আটককৃত সুতা বগুড়া ভ্যাট অফিসের তত্ত্বাবধানে শান্তাহারে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, গার্মেন্টস কারখানাতেও বিভিন্ন প্রয়োজনে সুতা ব্যবহার করতে হয়। এজন্য ইউডি’র (ইউলিটি ডিক্লারেশন বা প্রাপ্যতার ঘোষণা) আওতায় তারা সুতা আমদানি করে। এছাড়া স্থানীয় কিছু বস্ত্রশিল্প হ্রাসকৃত শুল্ক সুবিধায় সুতা আমদানি করার সুযোগ পায়। এসব সুতা খোলাবাজারে বিক্রি করার সুযোগ নেই। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এসব সুতা ও কাপড় বিক্রি করা হচ্ছিল। ফলে স্থানীয় বস্ত্রশিল্পের মালিকরা প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা হারাতে থাকেন।
এনবিআরের এমন অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বস্ত্রশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, চোরাই সুতা বিক্রি হওয়ার কারণে স্থানীয় শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। এই প্রথম সিরাজগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করা হলো। এতে এসব সুতা ও কাপড়ের চোরাকারবারি কমে আসবে এবং স্থানীয় বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান তিনি।
