রাজশাহীর গোাদাগাড়ী উপজেলা কাকনহাট থেকে নারায়নপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের কার্পেটিং উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ওই অঞ্চলের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটির অনেক অংশেই এখন কার্পেটিং উঠে খোয়া বের হয়ে গিয়েছে। এতে বিশেষ করে অটো রিকসা, বাই সাইকেল, মোটরসাইকেল চালকদের পড়তে হয় দুর্ঘটনার কবলে। কারণ সড়কের উঠে যাওয়া পাথরে পিছলে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় অনেককে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পিচ-খোয়া উঠে গেছে অনেক আগে। এরপর তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। প্রতিদিন এই সড়কে হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ছোটবড় দুর্ঘটনা এই সড়কে নিত্যদিনের ব্যাপার। দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনগুলো ধীরে চলতে বাধ্য হচ্ছে। এ সড়কে নিত্যদিন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাকনহাট পৌরসভা থেকে পাকড়ী ইউনিয়নের নারায়নপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। ২০০৬ সালে এই আঞ্চলিক সড়কটি মেরামত করা হয়। দীর্ঘদিন মেরামত না করা ও ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়কে ট্রাক, মাইক্রো, নছিমন, করিমন, ট্রলি (বালুবাহী), ইজিবাইক, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। এ অঞ্চলের মোশরা, মোহন পাড়া, রারোহাটি, ললিতনগর, নারায়ন পুর, ঘিয়া পুকুরসহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ কাকন হাট বাজারে যাতায়াত করে। কিন্তু অনেকদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কটিতে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে।
মোশরার কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, এই এলাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাঠানো হয়। কিন্তু সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় যানবাহনের ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে।
ইজিবাইক চালক সুমন জানান, সড়কের নানা স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া খানাখন্দের কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে লোকসানে পড়তে হচ্ছে তাদের। সময় অনেক বেশি লাগে যাতায়াতে। তাছাড়া ঝাঁকির কারণে যাত্রীরাও উঠতে চায় না গাড়িতে।
পাকড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা সখিনা বগম বলেন বাপুরে কি বলব আমি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য গাড়িতে চড়ে কাকন বাজারে যাচ্ছিলাম। রাস্তার ঝাঁকুনিতে আমি আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছি। তিনি আরো বলেন, সড়কটি তাড়াতাড়ি ভালো হলে সবার জন্য মঙ্গল হবে।
পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাকিব সরকার বলেন, সড়কটির অবস্থা খুব নাজুক। জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করার জন্য স্থানীয় এমপি ও সড়ক জনপদ বিভাগকে অনুরোধ করেছি।
রাজশাহী সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুজ্জোহা বলেন, সড়কটির সংস্কারের জন্য একনেকে অনুমোদন হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে দরপত্র আহবান করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
