স্টেডিয়ামগুলোতে সাধারণত প্রেসবক্সের লাগোয়াই হয়ে থাকে ধারাভাষ্য কক্ষ। ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়াম সেদিক থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম। মাঠে প্রেসবক্সের ঠিক উলটো পাশে ধারাভাষ্য কক্ষ। তাই প্রেসবক্সে ধারাভাষ্যকারদের আনাগোনা নেই। পদশ্রী সুনীল ডোশির নামকরণে এই কক্ষ থেকে ইন্দোর টেস্টে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন ১৩ ধারাভাষ্যকার। ইন্দোরে ইংরেজি ও হিন্দিতে ধারাভাষ্য দেওয়া হচ্ছে।
ইংরেজিতে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন সাত জন। তারা হলেন: সুনীল গাভাস্কার, সঞ্জয় মাঞ্জেরকার, হার্শা ভোগলে, মুরালি কার্তিক, দীপ দাস গুপ্তা, আতাহার আলী খান, শিবারামাকৃষ্ণ। হিন্দিতে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন গৌতম গম্ভীর, নিখিল চোপড়া, আকাশ চোপড়া, ভিভিএস লক্ষণ ও সঞ্জয় বাঙ্গার।
২৩ ইনিংসে নেই হাফ
সেঞ্চুরি
সাম্প্রতিক সময়ে দলে আসা-যাওয়ার মাঝেই আছেন ইমরুল কায়েস। কোনো ফরম্যাটেই বাংলাদেশ দলে নিয়মিত মুখ নন বাঁহাতি এই ওপেনার। ভারত সফরের টেস্ট দলেও সুযোগ পেয়েছেন তামিম ইকবাল না থাকায়। ইন্দোরের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে অন্তত নিজের অভিজ্ঞতার সুবিচার করতে পারেননি ইমরুল। গতকাল ইনিংসে ষষ্ঠ ওভারে ৬ রান করে গালিতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে টানা ২৩ ইনিংস হাফ সেঞ্চুরি নেই ইমরুলের। পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসই খেলতে পারছেন না তিনি।
গত তিন বছরে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ৪৪, যেটি করেছিলেন গত বছর নভেম্বরে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। বাঁহাতি এই ওপেনারের সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরিটা ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেবার ৭৮ রান করেছিলেন তিনি।
টেস্টে এত দর্শক!
ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টটি হয়েছিল তিন বছর আগে। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিল ভারত। এই মাঠের দ্বিতীয় টেস্ট বলেই কি না গতকাল গ্যালারিতে হাজির হয়েছেন অনেক দর্শক। স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা ৩০ হাজার। প্রায় হাজার বিশেক দর্শক এদিন ম্যাচ উপভোগ করেছেন। টেস্ট ক্রিকেট দেখতে এত দর্শকের উপস্থিতি খুব কমই দেখা যায়। বাংলাদেশের ইনিংসের তখন ৫২তম ওভার চলছিল। দুপুর গড়িয়ে আসছে বলে গ্যালারিও ছিল নিরুত্তাপ। দর্শকদের জাগিয়ে তোলার দায়িত্বটা নিলেন খোদ ভারতীয় অধিনায়ক কোহলি। বিভিন্ন গ্যালারির দিকে ফিরে করতালি দিতে আহ্বান জানালেন। এমন কি হাত দিয়ে দর্শকদের যা দেখালেন তার মর্মার্থটা এমন, খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছ নাকি। কোহলি আহ্বানের পরপরই গ্যালারিতে ফেরে প্রাণের জোয়ার।
আসলেন এবং চলে গেলেন
আগের বলেই মোহাম্মদ শামি বোল্ড করেছেন মুশফিকুর রহিমকে। পরের বলে মেহেদী হাসান মিরাজ এলবির ফাঁদে পড়েন। মিরাজ যেন উইকেটে আসলেন এবং চলে গেলেন। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার শূন্য রানে ফিরলেন তিনি। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে হ্যামিল্টনে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেছিলেন মিরাজ। তবে ইন্দোরে গতকাল তিনি উইকেটে স্থায়ী হয়েছেন মাত্র এক বল। এত কম বল খেলে অতীতে কখনোই আউট হননি তিনি। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে শামির বলটা লেগ স্ট্যাম্প মিস করত। লিটনের সঙ্গে আলোচনা করে রিভিউ নেননি মিরাজ।
-স্পোর্টস রিপোর্টার, ইন্দোর থেকে
