দীর্ঘ সাত বছর পর আগামীকাল শনিবার স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৩ বছর পর গত ১১-১২ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়নি। এক সঙ্গে আগামীকাল কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে। উত্তর-দক্ষিণ শাখার কাউন্সিলররা নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর অর্পণ করেছেন। কেন্দ্রের কাউন্সিলররাও নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দিবেন বলে জানা গেছে। তাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে সবাই তাকিয়ে আছেন শেখ হাসিনার দিকে।
জানা গেছে, দুর্নীতি, টেন্ডার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তারা কোনো পদ পাবেন না এবারের সম্মেলনে। যারা সত্ ও যোগ্য এবং রাজনীতিতে যাদের দীর্ঘ পথপরিক্রমা রয়েছে, দলের হাইকমান্ড তাদেরই নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন। আর এই প্রক্রিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা অগ্রাধিকার পেতে পারেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে যাদের ক্লিন ইমেজ আছে, সত্, কর্মঠ, তাদেরকে নেতৃত্বে আনা হবে।
সংগঠনের সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহকে আহ্বায়ক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুকে সদস্য সচিব করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্মল রঞ্জন গুহ লিখিত বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনের জন্য আমরা প্রস্তুত। ইতিমধ্যে সম্মেলন স্থলের মঞ্চ এবং প্যান্ডেলসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এবারের সম্মেলনে ১ হাজার ৯৭৫ জন কাউন্সিলর এবং প্রায় ১৮ হাজার ডেলিগেট উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও অতিথি থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার। সম্মেলন বর্ণাঢ্য এবং জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মেলন সুন্দর করতে ১৩টি উপকমিটি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতৃত্ব আসার মধ্য দিয়ে দলের মাঠপর্যায়ের ত্যাগী নেতারা দায়িত্ব পাবেন—এমন আশার সঞ্চার হয়েছে এই সহযোগী সংগঠনটির তৃণমূলেও। সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সকল স্তরে ত্যাগী নেতাদের দায়িত্বে আসার যে বার্তা দিয়েছেন তাতে উজ্জীবিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে এরইমধ্যে নিজেদের জানান দিচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা। নেতাকর্মীদের কাছে যাচ্ছেন তারা। ক্লিন ইমেজের যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য শ্রম-ঘাম দিয়েছেন তারাই সংগঠনের নেতৃত্বে আসুক— এমনটাই প্রত্যাশা সংগঠনটির নেতাকর্মীদেরও। জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
