চালক সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে পণ্য পরিবহনে সংশ্লিষ্ট সহস্রাধিক ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। এর মধ্যে বেশির ভাগ ট্রাকই ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে রপ্তানি পণ্য পরিবহন করে থাকে। আর ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের কারণে ট্রাক টার্মিনালে তিলধারণের জায়গা নেই। এমনই সংকটের কথা জানিয়েছে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমিতি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মো. রুস্তম আলী খান।
তিনি জানান, গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। ফলে চালকদের মধ্যে চরম ভীতি কাজ করছে। কারণ পণ্য পরিবহনে ব্যবহূত বেশির ভাগ ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্বল্পতা, হালকা মধ্যম ভারি লাইসেন্স প্রধানের জটিলতা, বিআরটিএ কাগজপত্রের জটিলতাসহ সমস্যা রয়েছে। চালকরা মনে করছেন, গাড়ির ফিটনেস, নিজেদের লাইসেন্সে সমস্যা নিয়ে রাস্তায় বের হলে তারা পুলিশ হেনস্তার শিকার হবেন। গুনতে হবে বিশাল অঙ্কের জরিমানা। এ কারণে চালকরা রাস্তায় গাড়ি চালাতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে তৈরি হয়েছে চালক সংকট। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকমালিক সমিতি এবং চালক শ্রমিক ইউনিয়নভুক্ত বেশ কয়েকটি সংগঠন লিখিতভাবে চালক সংকটের কথা জানিয়েছে। গতকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন ট্রাক টার্মিনালে সহস্রাধিক ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালকের অভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
মো. রুস্তম আলী খান বলেন, তেজগাঁও কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে গাড়ি রাখার জায়গা নেই। এ টার্মিনালে ২০০ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পার্কিং অবস্থায় রয়েছে। ফলে গাড়ির বহর রাস্তায় বিস্তৃত হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কিছু ধারা সংশোধনপূর্বক পরিবহন সেক্টরের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহবান জানান এ পরিবহন নেতা। তিনি বলেন, সড়ক আইনের কিছু ধারা নিয়ে বিশেষ করে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণের জন্য প্রতিনিয়ত আমাদের চাপ দিচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে আগামী ১৮ নভেম্বর সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয় (তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড) প্রতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সংকট থেকে কিভাবে উত্তরণ করা যায় তার কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে সম্মেলনে।
