গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ আর জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙচুরে অনেকটা অচল চীন নিয়ন্ত্রিত দ্বীপরাষ্ট্র হংকং। টানা পাঁচ মাসের আন্দোলন বিক্ষোভে সরকারের টালমাটাল পরিস্থিতি। দেশটির শক্তিশালী অর্থনীতিও বিপর্যয়ের মুখে। এমন সহিংস পরিস্থিতিতে আইনের শাসন ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে গোটা দেশে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ধীরে ধীরে পরিস্থিতির ওপর থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ছে।
বিক্ষোভ দমনে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে সহিংসতা আরো ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এদিন নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় সরকারি নির্দেশক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রেলসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে ক্রস হারবার চ্যানেল অবরোধ করে হংকংয়ের সঙ্গে চীনের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
পাঁচ মাস ধরে চলমান এই আন্দোলন বৃহস্পতিবার সবচেয়ে সহিংস অবস্থায় দেখা গেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে উঠে এসেছে। বিভিন্ন যানবাহন ও সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা প্রধান প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্রেও ভাঙচুর চালিয়েছে। বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে পুলিশ স্টেশনে পেট্রোল বোমা ছুড়তেও দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে। কিন্তু নাছোড়বান্দা আন্দোলকারীরা পুলিশের আক্রমণের যেকোনো ধরনের অভিযানের বিকল্প ব্যবস্থা বের করে রাজপথে টিকে থাকছে। এখন তারা মাস্ক, ছাতা, বিশেষ ধরনের পোশাক পরে পুলিশের টিয়ারগ্যাস, লাঠির বাড়ি কিংবা রাবার বুলেটকে মোকাবিলা করছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ডজন ডজন লোক আহত হলেও কিছুতেই আন্দোলন স্তিমিত হচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গোটা হংকং যেন ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। স্থবির হয়ে পড়েছে অঞ্চলটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিক্ষোভকারীরা মেট্রোরেলের লাইনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা কিংবা সেবা সংস্থার বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
হংকংয়ের লাক্সারি ফ্যাশন হাউজ বারবেরি জানিয়েছে, আন্দোলনের কারণে তাদের ব্যবসায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বিক্রির পরিমাণ পড়ে গেছে ১০ শতাংশের বেশি। প্রতিদিন বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ। অন্যদিকে এয়ারলাইন ক্যাথি প্যাসিফিক জানিয়েছে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে তাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিক্ষোভ বন্ধ না হলে হয়তো ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। একই পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে আরো অসংখ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন শেয়ারবাজারে তারা মূল্য হারাচ্ছে। -বিবিসি, সিএনএন
