অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আয়কর দিতে হবে। সরকার দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। আবার স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ দেওয়ার জন্য কাজ করছে। এজন্য অর্থের প্রয়োজন। তাই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ দেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে আয়কর দিতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ মেলার আয়োজন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আয়করের মাধ্যমে আদায়কৃত কোনো টাকা বিদেশে পাঠানো হবে না। এছাড়া আয়কর বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আগে অনিয়ম হয়নি তা বলবো না। তবে এখন আর হবে না। তিনি বলেন, কোনো অফিসার যদি খারাপ আচরণ করে, অবৈধ কিছু করার চেষ্টা করে, মেহেরবানি করে আমাকে ফোন, ই-মেইল বা ব্যক্তিগতভাবে জানাবেন। এ সময় তিনি বলেন, কিছু জায়গা থেকে বলা হচ্ছে, একবার কর দিলে আর বের হতে পারবেন না। এটি ঠিক নয়। আপনার সম্পদ জায়েজ করতে হলে, টাকা সাদা করতে হলে অবশ্যই আয়কর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে নিজের আয়করের তথ্য জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি প্রথম কর দিয়েছি ১৯৭০ সালে, ৫৬০ টাকা। ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত কর দিয়েছি ৫১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এবার আমার করযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে আয়কর দিয়েছি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। আমার প্রকৃত সম্পদ ৬৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। এ সময় স্ত্রী ও দুই মেয়ের করযোগ্য আয়, সম্পদের পরিমাণ ও কর পরিশোধের তথ্যও তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রীর স্ত্রীর করযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তিনি কর দিয়েছেন ৭১ লাখ টাকা। সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। তার বড়ো মেয়ের করযোগ্য আয় ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা, কর দিয়েছেন ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। তার সম্পদের পরিমাণ ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আর ছোটো মেয়ের করযোগ্য আয় ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং কর দিয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। তার সম্পদ ৬১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এ বছর অর্থমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা সর্বমোট কর দিয়েছেন ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
এবারের কর মেলার শ্লোগান হলো: ‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’। আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে আয়কর মেলা।
