সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

রহস্য উদ্ঘাটন না হলে র্যাবের সফলতা ম্লান হবে :হাইকোর্ট

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:১৮

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, দোষীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করতে না পারলে র্যাবের সফলতা ম্লান হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। মামলাটি বাতিল চেয়ে সন্দেহভাজন আসামি তানভিরের আবেদনের ওপর রায় ঘোষণাকালে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম

ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলে, ‘দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও তদন্তের মাধ্যমে এ মামলার রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়া এবং অপরাধীদের চিহ্নিত, গ্রেফতার এবং বিচারের সম্মুখীন না করতে পারা—নিঃসন্দেহে দুঃখ ও হত্যাশার বিষয়। প্রযুক্তিনির্ভর, এলিট ও চৌকস বাহিনী হিসেবে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র্যাব) জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক, বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, ভেজাল প্রতিরোধসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য সফলতা কিছুটা হলেও ম্লান হবে, যদি এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করতে না পারে। আদালত প্রত্যাশা করছে যে, র্যাব অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে হত্যা রহস্য উন্মোচন, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করতে সক্ষম হবে। বিশেষায়িত এই বাহিনী ব্যর্থতার দায়ভার বহন করুক, এটা কারোই কাম্য নয়।’

এরপর আদালত তার রায়ে, সামগ্রিক ঘটনা ও আইনগত অবস্থা বিবেচনায় সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে সন্দেহভাজন আসামি মো. তানভির রহমানকে অব্যাহতি দেন। একইসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী ৪ মার্চ বা তার আগে এ মামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা এবং অপরাধের সাথে বর্তমান আসামি তানভিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন হলফনামাসহ দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি।