বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙা কার্যক্রম পরিচালনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ হচ্ছে মর্মে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, পরিবেশ ছাড়পত্র অমান্যকারী জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডে জাহাজের আমদানি ও ভাঙার ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে জাহাজের বর্জ্য বিষয়ে পুরোপুরি এবং বিস্তারিত তথ্য ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ভাঙার জন্য কোনো জাহাজ আমদানি ও সৈকতায়নের অনুমতি প্রদান বন্ধ রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত রিট মামলায় বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। রায়ে হাইকোর্ট পরিবেশ সম্মত ব্যবস্থাপনা ছাড়াই জাহাজ ভাঙার অনুমতি দেওয়াকে বেআইনি ঘোষণা করে চার দফা নির্দেশনা দিয়েছে।
এগুলো হচ্ছে—জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে বর্জ্য মুক্ত সনদ প্রদানকারী ক্যাশবায়ার/বর্জ্য প্রত্যয়নকারী সংস্থা/বর্জ্য পরিষ্কারকারী সংস্থাদের তালিকা প্রস্তুতকরণ এবং তাদের কার্যক্রম কঠোর আইনি বিধানের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জাহাজের পতাকা পরিবর্তন রোধে এবং বর্জ্য বিষয়ে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণে ‘ধূসর’ এবং ‘কালো’ পতাকাবাহী দেশ হতে জাহাজ আমদানি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জাহাজের বর্জ্য বিষয়ে পুরোপুরি এবং বিস্তারিত তথ্য ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ভাঙার জন্য কোনো জাহাজ আমদানি ও সৈকতায়নের অনুমতি প্রদান না করা; এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বর্জ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন বাসেল কনভেনশন; দেশে প্রচলিত জাহাজ ভাঙা বিষয়ক বিধিমালা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। রায়ের পর রিটকারী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এই রায়ের ফলে প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে ও নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে দেশে বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করবে।
