রাতে মাসকটে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে গতকাল দুপুরেই ঢাকায় ফিরেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। ওমানের বিপক্ষে ৪-১ গোলের হারটি নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলাররা খুব একটা হতাশ নন। খেলোয়াড়েরা বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। খেলোয়াড়দের কণ্ঠে একটা কথা বেশ জোরেশোরেই উচ্চারিত হলো—ওমান ও বাংলাদেশ ফুটবল দলকে এক পাল্লায় মাপলে হবে না। প্রশ্ন উঠল কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাইয়ে আফগানিস্তান, কাতার, ভারতের বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলল বাংলাদেশ; তাহলে ইয়াসিন, ইব্রাহিম, রহমত মিয়া, সুফিল, বিপলু, সোহেল রানা, রিয়াদুল হাসান, গোলকিপার রানা, জামাল ভুইয়ারা ওমানের বিপক্ষে সেটা ধরে রাখতে পারল না কেন? জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের ব্যাখ্যাটা অন্যরকম। তিনি বলেন, ‘ওমান ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক দূরত্ব। আমাদের গ্রুপে সবচেয়ে শক্তিশালী দলই হচ্ছে ওমান।’ মামুনুল বলছেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যতই পার্থক্য থাকুক না কেন, মনস্তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ ও ভারত সব সময় সমান। ম্যাচের চান্স ফিফটি ফিফটি। উপমহাদেশের ফুটবল আর অন্যান্য দেশের ফুটবলের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। আপনি যদি ওমান ও কাতার ফুটবলের ইতিহাস দেখেন, বুঝতে পারবেন আমরা কত পিছিয়ে রয়েছি। ওমান শক্তিশালী দল। তারা বল ধরে ধরে খেলেছে। সারাটা সময় রানিং করেছে। আমরা তো মেশিন নই যে ৯০ মিনিট একই রিদমে দৌড়াতে পারব। কোনো দলই সেটা পারবে না।’
মামুনুলের চোখে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচের সফলতা যতটুকু, তা হচ্ছে প্রথমার্ধের ফুটবল। গোলশূন্য ফুটবল। ওমান গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ওমান রহমত মিয়া, রায়হান হাসান, ইয়াসিন, রিয়াদুলদের আগলে রাখা রক্ষণভাগ লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। মামুনুল বললেন, ‘প্রথমার্ধে রক্ষণে যেসব ফাঁকফোঁকর আদায় করতে পারেনি, দ্বিতীয়ার্ধে সেটা করতে পেরেছে। রক্ষণের ফাঁকগুলো বের করে নিয়ে গোল করেছে।’ রক্ষণের দোষ দিচ্ছেন না জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। ‘এখানে দোষ ধরার কোনো সুযোগ নেই। আগের দুই-তিনটা ম্যাচের ওপর ফোকাসটা বেশি করা হয়েছিল। অথচ ই গ্রুপে সবচেয়ে কঠিন দলই ছিল ওমান’—বললেন মামুনুল।
মাহবুবুর রহমান সুফিল বলেছেন, ‘কখনো কখনো খারাপ সময় যায়। আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল। বল ধরে খেলার মতো ক্ষমতা ছিল। কিন্তু ওমানের বিপক্ষে আমরা সেটা খেলতে পারেনি। এই ম্যাচে বল ধরে খেলার ক্ষমতাটা কম ছিল।’ ওমানের খেলোয়াড়েরা পায়ে পায়ে বল রেখেছেন। বাংলাদেশ প্রথমার্ধে একটা সুযোগ পেয়েছিল।
অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ার শট থামিয়ে দিয়েছিলেন ওমানের গোলকিপার। এরপর ম্যাচের বাকি সবটাই প্রায় ওমানের পক্ষেই যায়। সুফিল সেটা মেনে নিয়েই বললেন, ‘আগের তিন ম্যাচের মতো খেলতে পারিনি। ভারতের চেয়ে ওমান তিন-চার গুণ বেশি শক্তিশালী।’ জানা গেছে, ওমানে যাওয়ার পর দলের অনুশীলনের প্রথম দিকেই ইংলিশ কোচ জেমি ডে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখেছেন। ভারতের ম্যাচের পর যেমনটা রেখে গিয়েছিলেন, সেই পারফরম্যান্স ফিরে পাননি কোচ। এটা নিয়ে কোচের হতাশার কথা ওমানের মাটিতে শুনেছেন খেলোয়াড়েরা।
সব ভুলে এখন নতুন ম্যাচের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। আগামী ২৬ মার্চ ঢাকায় বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান, ৩১ মার্চ দোহায় বাংলাদেশ ও কাতার, ৪ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারত এবং ৯ জুন বাংলাদেশ ও ওমান ম্যাচ।
