রাফাল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দুই পক্ষই চাঙ্গা

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৮

রাফাল চুক্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার দাবি ফের খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ আজ এই রায় দিয়েছে। কিন্তু ঐ বেঞ্চেরই বিচারপতি কে এম জোসেফ এই রায়ের সঙ্গে সহমত হয়েও ভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে পৃথক রায়ে বলেছেন, রাফাল চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তদন্ত করতে চাইলে কোনো বাধা নেই। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার

জোসেফের এই রায়কে হাতিয়ার করেই শুক্রবার কংগ্রেস চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে, সাহস থাকলে কেন্দ্র সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিক। যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করে রাফাল চুক্তি খতিয়ে দেখা হোক। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, ‘আজকের সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ছবিতে ফের সিলমোহর দিল।’

ঠিক ১১ মাস আগে, ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রাফাল চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি খারিজ করে দিয়েছিল। কিন্তু তার পরে নতুন নথি প্রকাশ্যে আসে। তার ভিত্তিতে অভিযোগ ওঠে, রাফাল কেনা নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ফরাসি যুদ্ধবিমান সংস্থা দাসোর দর কষাকষির সময় প্রধানমন্ত্রীর দফতর সমান্তরাল দর কষাকষি চালাচ্ছিল। এরপরেই বাজপেয়ী আমলের দুই মন্ত্রী অরুণ শৌরী, যশবন্ত সিনহা ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সুপ্রিম কোর্টে আগের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান। তাদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত করার নির্দেশ দিক। কিন্তু প্রধান বিচারপতি গগৈ ও বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কউল তাদের রায়ে জানিয়েছেন, ‘এই মামলা পুনর্বিবেচনার আর্জির সারবত্তা নেই।’

রাফালের মূল চুক্তিটি হয়েছিল ইউপিএ আমলে। সেই সময় ১২৬টি যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ফ্রান্সের দাসো এভিয়েশন এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান এরোনটিক্যাল লিমিটেডের (হ্যাল) সঙ্গে চুক্তি করেছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপি সরকারে এসে সেই চুক্তি বাতিল করে। মোদি ফ্রান্সে গিয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি রুপিতে ৩৬টি রাফাল কেনার ঘোষণা করেন। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, ইউপিএ সরকার যে রাফাল যুদ্ধবিমান এক একটি ৫২৬ কোটি রুপি দিয়ে কিনছিল, মোদি সরকার তাই ১৬০০ কোটি টাকা দিয়ে কিনছে।