কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে। অপরদিকে শহরের সাহিত্যিকা পল্লী বাজার এলাকায় এক রোহিঙ্গা যুবককে কে বা কারা গলা কেটে হত্যা করেছে। শুক্রবার ভোররাতে পৃথক সময়ে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদাস্থ নাফ নদী সংলগ্ন একটি খালে। এতে দুই বিজিবি সদস্য আহত ও ঘটনাস্থল থেকে এক লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। নিহত নূর কবির (২৮) মিয়ানমারের মোতালেবের ছেলে। আর জবাইয়ের শিকার নূর জোহার (২৫) কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকা পল্লীতে বসবাসকারি রোহিঙ্গা মৃত হোসেন আহমদের ছেলে। টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়সাল হাসান খান জানান, ছ্যুরি খালে কিনারায় কেওড়া বাগানের ভিতরে কয়েকজন ব্যক্তি কাদা মাটিতে গর্ত খুঁড়ছিল। এ সময় বিজিবির নিয়মিত টহলদল টর্চের আলোতে দেখতে পেয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করলে কালো পলিথিন মোড়ানো বস্তা নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবি জওয়ানরা তাদের পিছু ধাওয়া করলে ইয়াবা পাচারকারী দল অতর্কিতভাবে বিজিবির ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এ সময় দুইজন বিজিবি সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পালটা গুলিবর্ষণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ৭-৮ মিনিট গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিত্সক উন্নত চিকিত্সার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে পৌঁছার পর চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার (রোহিঙ্গার) পকেটে থাকা পরিচয় পত্র দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়।
অপরদিকে, কক্সবাজার শহরের ‘দুর্ধষ সন্ত্রাসী’ রোহিঙ্গা যুবক নূর জোহারকে গলা কেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। গতকাল সকালে কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী সমিতি বাজার সংলগ্ন ব্রিজের নিচে তার লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল হতে মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তবে, তাকে কারা হত্যা করেছে, তা জানা যায়নি। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. খাইরুজ্জামান লাশ উদ্ধারের কথা স্বীকার করে বলেন, তার হত্যার ক্লু উদ্ঘাটনে চেষ্টা চলছে।
