বিএনপির সংসদ সদস্যদের জাতীয় সংসদ থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘বিএনপির এমপি মোশাররফ হোসেন বলেছেন, পার্লামেন্টে কথা বলব। সেখানে আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেবে কেন? এই পার্লামেন্ট তাদের, এই পার্লামেন্ট তো জনগণের না। তাই বলি, পার্লামেন্টে যাওয়ার নিয়ম আছে, পার্লামেন্টের বাইরে আসারও তো নিয়ম আছে। আমাদের যারা পার্লামেন্টে গেছেন, কথা যখন বলতে পারেন না তখন সেখানে যাওয়ার দরকারটা কী?’
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার স্মরণসভায় তিনি এই পরামর্শ দেন। গয়েশ্বর বলেন, শেখ হাসিনা যদি ১৪৭ জন নিয়ে, ১১ জন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সবাইকে নিয়ে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারেন। তাহলে আপনারা ছয় থেকে সাত জন থেকে কী করবেন? কিছুই করতে পারবেন না। তা থেকে দেশটার কথা একবার ভাবেন। আপনারা বলেছেন, ঘরে-বাইরে আন্দোলন। ঘরে বা পার্লামেন্টে আমাদের সেই অবস্থা নেই, সেই শক্তিও নেই। তাই ঘরের আন্দোলন বাদ দিন, আসুন আমরা রাস্তার আন্দোলন করি।
তিনি বলেন, ভোট ছাড়া নির্বাচন হয়ে সংসদ গঠন সম্ভব হলে পেঁয়াজ ছাড়া রান্নাও সম্ভব। পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণ সিন্ডিকেটের কারসাজি। সাদেক হোসেন খোকাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, উনি এক জন আপসহীন নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সাদেক হোসেন খোকা ঢাকার অনেক রাস্তার নামকরণ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের নামে। শুধু এক জন মুক্তিযোদ্ধার নামে ঢাকার রাস্তার কোনো নামকরণ করা হয়নি তিনি হলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।
স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন, সাদেক হোসেন খোকার বড়ো ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন প্রমুখ।
