অস্থিসন্ধি
দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে। প্রতিটি অস্থিসন্ধির অস্থিসমূহ একরকম স্থিতিস্থাপক রজ্জুর মতো বন্ধনী দিয়ে দৃঢ়ভাবে আটকানো থাকে; ফলে অস্থিগুলো সহজে সন্ধিস্থল থেকে বিচ্যুত হতে পারে না। সন্ধিস্থল বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সহায়তা করে। আমাদের দেহের সব অস্থিসন্ধি এক রকম নয়। এদের কোনোটি একেবারে অনড়, যেমন: আন্ত:কশেরুকীয় অস্থিসন্ধি, কোনটি আবার সহজে সঞ্চালন করা যায়, যেমন: হাত ও পায়ের অস্থিসন্ধি।
সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি
সাইনোভিয়াল গহবর/সাইনোভিয়াল রস সমন্বিত অস্থি সন্ধিকে সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি বলে। একটি অস্থিসন্ধিতে দুটি মাত্র অস্থির বহির্ভাগ এসে মিলিত হয়ে একটি সরল সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি গঠন করে। আর যখন দুয়ের অধিক অস্থি মিলিত হয় তখন একে জটিল সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি বলে।
১। সংযুক্তি : সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধিতে অস্থিসমূহ সরাসরি সংযুক্ত থাকে না, এর প্রান্তভাগ তরুণাস্থি দ্বারা আবৃত থাকে।
২। লিগামেন্ট: এ অস্থিসন্ধি লিগামেন্ট দ্বারা দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে।
৩। সাইনোভিয়াল গহবর : এ অস্থিসন্ধিগুলো তরলপূর্ণ গহবর দ্বারা পৃথক থাকে।
৪। সাইনোভিয়াল ফ্লুইড : সাইনোভিয়াল গহবরে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড নামে এক ধরনের তরল পদার্থ থাকে, এরা সন্ধির ঘর্ষণ প্রতিরোধ করে।
অস্থিসন্ধির প্রকারভেদ : অস্থিসন্ধি কয়েক ধরনের । যেমন-
নিশ্চল অস্থিসন্ধি (Fixed joint): নিশ্চল অস্থিসন্ধিগুলো অনড় অর্থাত্ নাড়ানো যায় না, যেমন করোটিকা অস্থিসন্ধি।
ঈষত্ সচল অস্থিসন্ধি (Slightly movable joint): এসব অস্থিসন্ধি একে অন্যের সাথে সংযুক্ত থাকলেও সামান্য নড়াচড়া করতে পারে, ফলে আমরা দেহকে সামনে , পিছনে ও পাশে বাঁকাতে পারি । যেমন - মেরুদণ্ডের অস্থিসন্ধি ।
পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি (Freely movable joint): এ সকল অস্থিসন্ধি সহজে নড়াচড়া করানো যায়। এ জাতীয় অস্থিসন্ধির মধ্যে বল ও কোটরসন্ধি, কবজা সন্ধি প্রধান।
বল ও কোটরসন্ধি ( Ball & Socket joint): বল ও কোটরসন্ধিতে সন্ধিস্থলে একটি অস্থির মাথার মতো গোল অংশ অন্য অস্থির কোটরে এমনভাবে স্থাপিত থাকে যাতে অস্থিটি বাঁকানো , পার্শ্ব চালানো সম্ভবপর হয়।
উদাহরণ : কাঁধ ও উরুসন্ধি।
কব্জিসন্ধি (Hinge joint): কবজা যেমন দরজার পাল্লাকে কাঠামোর সাথে আটকে রাখে, সেরূপ কবজার মতো সন্ধিকে কব্জি সন্ধি বলে। যেমন- হাতের কনুই, জানু এবং আঙ্গুলগুলিতে এ ধরনের সন্ধি দেখা যায় । এসব সন্ধি কেবলমাত্র এক দিকে নাড়ানো যায়।
পেশির কাজ:
অভ্যন্তরীণ অঙ্গে ও রক্তনালি গাত্রে অনৈচ্ছিক পেশি , হূেপশি এবং অস্থিগাত্র ঐচ্ছিক কঙ্কাল পেশি নিয়ে পেশিতন্ত্র গঠিত। পেশিতন্ত্র বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। যেমন- অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন, চলাফেরায় সহায়তা , অঙ্গবিন্যাস ও ভারসাম্য রক্ষা করা।
কঙ্কালতন্ত্রের সাথে যৌথভাবে দেহের নির্দিষ্ট আকার গঠন করা।
পেশিতে গ্লাইকোজেন সঞ্চয় করে শক্তির উত্স ও ভবিষ্যতের জন্য শক্তি সংরক্ষণ করে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হওয়ায় হূেপশি হূিপণ্ডের স্পন্দন ও রক্ত সঞ্চালনের দায়িত্ব পালন করে।
