বাফুফের এজিএম

তৃণমূলের ফুটবল নিয়েই আলোচনা হয়নি

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪৯

আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা, ফিফা নিজেরাই বাফুফের অর্থ খরচের জবাবদিহিতা নিয়ে থাকে। তারা অর্থ বরাদ্দ দেয় তারাই হিসাব নিয়ে সব কিছুর অনুমোদন দেয়। ফিফার কথা হচ্ছে যেকোনো প্রকল্পে আগে তার সদস্য সংস্থাগুলোকে অর্থ ব্যয় করতে হবে। তারপর অর্থ গ্রহণের আবেদন করতে হবে। ফিফা অর্থ ব্যয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন না তুললেও বছর জুড়ে ফুটবল অঙ্গনে বাফুফের অর্থ খরচের নানা অনিয়মের কথা শোনা যেত। বাফুফেতে নেই এমন ক্লাব কর্মকর্তাও অর্থিক অনিয়মের কথা তুলতেন। কালকের এজিএমে বাফুফের আয়ব্যয় নিয়ে রাগ ক্ষোভ ছিল। নানা অনিয়মের কথা তুললেও গতকাল তিন বছরের অডিট রিপোর্ট অনুমোদন দিয়েছেন কাউন্সিলরা। তাতে সন্তুষ্ট বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন।

গাজীপুরের একটি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় গত তিন বছরের অডিট রিপোর্ট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলররা জানিয়েছেন অনুমোদনের কথা। তবে আপত্তি ওঠেছিল সাদাকাগজে ভাউচার করা নিয়ে। সে ব্যাপারে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছে বাফুফে। বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব তরফদার রুহুল আমিন বলেছেন, ‘আমরা এজিএমে বাফুফের কিছু অনিয়ম এবং সাদা কাগজ দিয়ে ভাউচার করা হয়েছে এগুলো তুলে ধরেছি। এটার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ওনারা বলেছেন যে, পরবর্তীতে যেন সাদা কাগজে ভাউচার না হয় সেই ব্যাপারে আমরা সতর্ক থাকব।’ তিন বছরের বাজেটের সঙ্গে আগামী বছরের সাড়ে ৪১ কোটি টাকার বাজেটও অনুমোদন হয়েছে। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন এজিএম নিয়ে সন্তুষ্ট। কাউন্সিলরা তাকে সব রকম সহযোগিতা করেছে বলে এজিএম শেষে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তিন বছর কেন এজিএম হয়নি সেটা আমরা কাউন্সিলরদের বুঝিয়েছি। তারা সেটা মেনে নিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এক এবং ফুটবলের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ।’

প্রায় মাস দুই আগে বাফুফের সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মুহি আর্থিক অভিযোগের কথা তুলেছিলেন। কিন্তু কালকের এজিএমে তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। আরেক সহসভাপতি বাদল রায়ও মুহির পক্ষ নিয়ে অভিযোগ তুললেও কাল এজিএমে তাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি, এমন অভিযোগ বাদল রায়ের। তিনি বললেন, ‘আমাকে কথা বলতে না দেওয়ার অনেক কারণ হতে পারে। আমি অডিট নিয়ে কথা বলব। তৃণমূল ফুটবলকে কি দেওয়া হলো তা নিয়ে কথা বলতে পারি। দেশের ফুটবল স্থবির তা নিয়ে বলতে পারি।’ বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানিয়েছেন, এখানে বলার সুযোগ নেই। আমরা শুনব এবং জবাব দিব।’ বাদল রায় তীর ছুড়লেন সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর দিকে। বললেন, ‘অডিট রিপোর্টটা খুব সুন্দর করে পাশ করিয়ে নিয়েছেন সালাম।’ বাফুফের সদস্য আরিফ হোসেন মুন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, খুব ভালোভাবে এজিএম হয়েছে। খারাপ কিছু ছিল না।’

তিন বছর পর মিলন মেলা, অথচ ফুটবল জেলার কাউন্সিলররা কেউ  জেলার ফুটবল উন্নয়নে কথা তোলেননি বলে জানা গেছে। বাদল রায়ও জানালেন, কেউ তো বলেও না তার জেলায় ফুটবল নিয়ে কি হচ্ছে, না হচ্ছে। সাতক্ষীরা ডিএফএর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বললেন, ‘জেলা পর্যায়ের ফুটবল নিয়ে আলোচনা হয়নি। আলোচনা হওয়ার সুযোগও ছিল না। কারণ এটা এজেন্ডায় ছিল না।’