বগুড়ায় ৬ রুটে শ্রমিকদের অঘোষিত বাস ধর্মঘট

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৭

নতুন পরিবহন আইন নিয়ে আতঙ্কে বগুড়ায় ছয়টি রুটে অঘোষিত বাস ধর্মঘট শুরু করেছে শ্রমিকরা। শনিবার সকাল থেকে বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন কিছুটা চলাচল করলেও সন্ধ্যার পর থেকে বাস চলাচল আরো স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে বাস মালিক বা শ্রমিক সংগঠনগুলো এই বাস ধর্মঘটের দায় নিচ্ছে না। তারা বলছে, নতুন আইনের ভয়ে শ্রমিকরা নিজে থেকেই বাস বন্ধ রেখেছে। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে বলে মালিক সমিতি জানিয়েছে।

বগুড়ার যেসব রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে সেগুলো হলো—বগুড়া থেকে নওগাঁ, বগুড়া-সান্তাহার, বগুড়া-আক্কেলপুর, বগুড়া-আবাদপুকুর, বগুড়া-চাঁপাপুর, বগুড়া-মোলামগাড়ি। অন্যদিকে বগুড়া-জয়পুরহাট ও বগুড়া-গাইবান্ধা রুটেও সীমিত আকারে বাস চলাচল করেছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গতকাল সকাল থেকে আকস্মিকভাবে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়ে যান যাত্রীরা। ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ট্রাকে ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর সুযোগ পেয়ে অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে দেড় থেকে দুই গুণ ভাড়া আদায় করে।

বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জমান জানান, দুপুর ২টার দিকে সদর থানা পুলিশ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে চালকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, যেসব চালক বিআরটিএ অফিসে হালনাগাদ করার জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তাদের কোনো হয়রানি করা হবে না। পুলিশের এই আশ্বাসে চালকরা বাস চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ঐ ছয়টি রুটে বাস চলাচল শুরু হয়নি।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের হিসাব অনুযায়ী আন্তঃজেলা ও আভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ৭০০ বাস চলাচল করে। তবে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব বাসের প্রায় ৯০ শতাংশেরই ফিটনেস নেই। এমনকি চালকদেরও লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর নতুন সড়ক আইন কার্যকর হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহ তা শিথিল রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। শুক্রবার সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় যে কোনো সময় অভিযান চালানো হবে—এমন শঙ্কা থেকেই চালকরা বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বসে থাকা নওগাঁ-বগুড়া রুটের বাসচালক আবদুল বারীক জানান, তারা স্বেচ্ছায় মালিকের কাছে চাবি জমা দিয়ে এসেছেন। কারণ নতুন আইনে তাদের পক্ষে বাস চালানো সম্ভব নয়। তার মতে, আইন তৈরির আগে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করা ও শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল। ঐ একই রুটের অপর এক বাসের হেলপার জনি জানান, সড়কে অনেক কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু নতুন আইন অনুযায়ী সব দোষ শ্রমিকদের নিতে হবে। আইন এত কঠোর করা হয়েছে যে তা শ্রমিকদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়।

বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন শেখ হেলাল জানিয়েছেন, তাদের না জানিয়েই কয়েকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শিগিগরই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের শাহ আক্তারুজ্জামান ডিউক জানান, মূলত চালকরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়েই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা আবারও বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।