সরকারের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে কার্যকর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) নিশ্চিত করতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, পিপিপি বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে তা দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এটি নিশ্চিত করা গেলে, পিপিপি সফল হবে। গতকাল শনিবার ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। ‘উদ্যোক্তা তৈরিতে পিপিপি’র ভূমিকা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ঐ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ এবং ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পিপিপি অথরিটির প্রধান নির্বাহী ও সচিব মুহাম্মদ আলকামা সিদ্দিকী। এতে অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক ও খাত সংশ্লিষ্টরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, সুষম উন্নয়নের জন্য পিপিপি ভালো একটি উদ্যোগ। এর জন্য বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করতে সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। পিপিপিতে সফল হতে হলে ব্যবসা করার সহজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে।
মুহাম্মদ আলকামা সিদ্দিকী বলেন, ১৯৯৬ সালে জ্বালানি খাতে প্রথম পিপিপির ব্যবহার করা হয়। অবকাঠামো উন্নয়নে পিপিপি ধারণা গ্রহণ করা হয় ২০০৪ সালে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিপিপি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসডিজি অর্জন করতে হলে অবশ্যই পিপিপি নিশ্চিত করতে হবে।
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে পিপিপি স্বার্থক মডেল হতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এক্ষেত্রে সফল হয়েছে। কিন্তু পিপিপি বাস্তবায়নের বড়ো বাধা আস্থার অভাব। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেট পিপিপি সফল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এসব বাধা দূর করতে সবার আগে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেহানা পারভীন, সারাহ তাসনীম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শবনম জাহান প্রমুখ।
