ডিজিটাল মার্কেটিং শিল্পের প্রসার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বেসিসের বৈঠক

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৩

আরিফুর রহমান

 

২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলার জারি করে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ও প্রি-পেইড কার্ড দ্বারা দেশের নাগরিকদের আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঘরে বসে পণ্য কেনার সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়, যা দেশের ডিজিটাল শিল্প সম্প্রসারণে কার্যকরী ভূমিকা রেখে চলেছে।

তবে সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু ব্যাংক আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ও প্রি-পেইড কার্ডের সুবিধা সীমিতকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ।

সংকট থেকে উত্তরণে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীরের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসিসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি (প্রশাসন) শোয়েব আহমেদ মাসুদ এবং বেসিস ডিজিটাল কমার্স স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ কামাল। সংকটাপন্ন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বেসিস সভাপতি।

ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল শিল্পের সাথে জড়িত আছে বড়ো-ছোটো প্রায় ১ হাজারের মতো এজেন্সি। এছাড়া এই শিল্পের সাথে জড়িত আছে অসংখ্য ফ্রিল্যান্সার, প্রোডাকশন হাউজ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছাড়াও আরো অনেকে। এই শিল্পে কর্মরত আছে আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজারের মতো জনবল, যারা ব্যবসায় প্রতিস্থানের জন্য প্রতিনিয়ত তৈরি করে যাচ্ছে অসংখ্য ডিজিটাল কনটেন্ট এবং প্রদান করছে ডিজিটাল মিডিয়ার বিভিন্ন সার্ভিস (বিজ্ঞাপন বিতরণ, ক্রয়, বিজ্ঞাপনের প্রযুক্তি প্ল্যাটফমর্ , দেশীয় কনটেন্ট প্ল্যাটফমর্  ইত্যাদি)।

প্রতি বছর ২ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে ফেসবুক এবং গুগলসহ অন্যান্য বিদেশি অনলাইন বিজ্ঞাপনী চ্যানেলে পরিশোধ করা হচ্ছে। এই অর্থের একটা বড়ো অংশ পরিশোধ করা হয় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইস্যুকৃত ক্রেডিট ও প্রি-পেইড কার্ড দ্বারা। এই সমস্ত কার্ডে ট্রাভেল কোটায় বছরে ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচের সুবিধা থাকে। বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ছোটো এজেন্সি, ই-কমার্স ও এফ-কমার্স মডেলের অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা ব্যবহার করেই গুগল এবং ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের মূল্য পরিশোধ করে থাকে। 

সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু ব্যাংক এ সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। অর্থাত্, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ও প্রি-পেইড কার্ডে ট্রাভেল কোটায় বরাদ্দ ডলার থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং খাতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ থাকছে না। ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, ফলে দেশে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো একটি সম্ভাবনাময় খাতের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি সমস্ত ছোটো উদ্যোক্তাদের জীবিকার দায়ে ‘হুন্ডি’ এর মতো অবৈধ প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বন করে আর্থিক লেনদেন পরিচালনায় বাধ্য করতে পারে।

ব্যাংকগুলো দিয়ে গৃহীত এই পদক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে কার্যকরী ভূমিকা না রেখে বরং ব্যবসায়িক পরিবেশ নষ্ট করে উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের চালিকাশক্তি এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাগুলোকে পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য করবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।

বৈঠকে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবনাসমূহ নিম্নরূপ-

ডিজিটাল মার্কেটিং কাজে ব্যবহারের জন্য বিকল্প সমাধান হিসেবে সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার যেমন—মাস্টারকার্ড/ভিসা সংবলিত বিশেষ নিরবচ্ছিন্ন কার্ড প্রদান করা যেতে পারে যা শুধু অনুমোদিত মিডিয়া চ্যানেলগুলোতে পেমেন্ট পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা যাবে।

বেসিসের অনুমোদনক্রমে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এই বিশেষ কার্ড গ্রহণ করতে পারবেন, যা ডিজিটাল মার্কেটিং কাজে বছরে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্য পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রস্তাবনা রাখা হয় বৈঠকে।