জান-ই-আলম, ইন্দোর থেকে
যতীন সাক্সেনা, ইন্দোরের ক্রিকেটার। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন ছত্রিশগড় রাজ্য দলের হয়ে। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে পদচারণা রয়েছে এই ভারতীয় ক্রিকেটারের। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি, পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন যতীন। যেখানে সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও আবু জায়েদ রাহীকে। মিরাজ-রাহীর সঙ্গে দেখা করতে ৬০০ কি.মি. পাড়ি দিয়ে ইন্দোরে এসেছেন শনিবার রাতে এসেছেন যতীন।
গতকাল সকালে ম্যারিয়ট টিম হোটেলে মিরাজ-রাহীর সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। হোটেলে ক্লান্ত, হারের হতাশায় নিমজ্জিত ছিলেন বাংলাদেশের দুই তরুণ ক্রিকেটার। যতীন বলছিলেন, টেস্ট খেলে ওরা ক্লান্ত ছিল। আর হারের পর কোনো ক্রিকেটারেরই ভালো লাগে না।
রাহী-মিরাজদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গেও আড্ডা দিতে আসেন যতীন। জালাজ সাক্সেনা, তারই বড়ো ভাই। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে খেলেছেন। রূপগঞ্জের কর্মকর্তা আহমেদ সাব্বির রুবেলের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিলেন যতীন। ইন্দোরের বর্তমান সময়ের ক্রিকেটারদের নাম খুঁজলে দুই সহোদরের নাম আসবেই।
যতীনের চোখে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসটা ভালো লাগেনি। যতীন বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে উইকেট বুঝতে না পারা, পেসাররাও সকালে সুইং পেয়েছিল। তাই খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে প্রথম দিনের পর উইকেটে খুব বেশি কিছু ছিল না। অনেকটা ফ্লাট উইকেটের মতোই। ১৩০ রানের যে ব্যবধান, দেখেন ওটা হয়ে যেতে পারত। এখানে বাংলাদেশের অনেক ভালো ব্যাটসম্যান ড্রাইভ খেলতে গিয়েছে, বড় শট খেলতে চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে লিটন দাসের ওইভাবে আউট হওয়াটা ঠিক হয়নি। মিঠুনও চার্জ করতে গিয়েছে। না হয় আরও ভালো হতো।’
যতীন সমীহ করে, সম্মান জানিয়ে বললেও, বাস্তবতা হলো; তিনদিনে ইন্দোর টেস্ট শেষ হওয়াটা খুব অবাক করা বিষয় নয়। বহিরাবরণে যতই আক্ষেপ, অতৃপ্তি থাকুক, ভারতের কাছে বাংলাদেশের এই হার লজ্জার নয়। দুই দলের শক্তিমত্তার ব্যবধান, ক্রিকেটারদের স্কিলের পার্থক্য সবারই জানা।
ম্যাচে দুই দলের খেলায় সবচেয়ে বড়ো পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছে, স্পোর্টিং উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের খেলার অনভ্যস্ততা। বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে খেলা, স্পোর্টিং উইকেটে খেলার অনভ্যাসই পিছিয়ে রেখেছে বাংলাদেশকে। ইশান্ত-উমেশদের ১৩৫-১৪০ কিমি. বোলিংয়ের চেয়ে এমন বিশ্বমানের বোলিং খেলা, এসব উইকেটে খেলার প্রস্তুতি না থাকাই ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে। সঙ্গে মানসিকভাবে বেশ পিছিয়ে ছিলেন ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস, সাদমান ইসলাম আত্মবিশ্বাস যোগানোর চেয়ে ড্রেসিংরুমে ভয়ের চোরাসে াত বইয়ে দেয়ার কাজটাই বেশি করেছেন। দুই ইনিংস মিলে তারা করেছেন ২৪ রান। ইনিংসের শুরুতেই দুজন আউট হয়ে গেছেন। যা চাপে ফেলেছে গোটা দলকে। যার ছাপ ছিল ম্যাচ শেষে অধিনায়কের কথায়ও।
মুমিনুল বলেছিলেন, ‘আমরা যে বোলিংয়ের বিরুদ্ধে খেলেছি সেটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। ওপেনাররা যদি ১৫-২০ ওভার পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে তাহলে মনে হয় পরের দিকে সহজ হয়। ঐ ১০-১৫ ওভার আমাদের একটু চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।’ বোলাররাও এমন উইকেটে বোলিংয়ের সুযোগ পান না দেশের মাটিতে। তাই তো রবিচন্দন অশ্বিন উইকেট পেলেও মিরাজরা দিনভর ক্লান্তিকর বোলিংয়ের পর এক উইকেট পান। তাইজুল ইসলামের মতো নির্ভরযোগ্য বাঁহাতি স্পিনার উইকেটেরও দেখা পাননি। সুইং করানো, সিম কাজে লাগানোর সামর্থ্য না থাকায় এবাদত হোসেন বোলিং করে গেছেন এবং ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের উইকেটে থিতু হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। শেষ বেলায় অবশ্য ঋদ্দিমান সাহার উইকেট পেয়েছেন এবাদত।
