বিশেষ পুনঃতপশিলকরণের সুবিধার আরো তিন মাস বাড়ল

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১১

২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃ তপশিল করা যাবে

অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে মিলবে নতুন ঋণ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিশেষ পুনঃতপশিল নীতিমালার সময়সীমা আরো তিন মাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাত্ মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে পুনঃ তপশিলের জন্য আরো তিন মাস আবেদন করতে পারবে ঋণখেলাপিরা। তবে এ সংক্রান্ত আবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদন নিতে হবে। একইসঙ্গে এ সুবিধাপ্রাপ্তদের নতুন ঋণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণ পুনঃ তপশিল নিয়ে ২০১২ সালের মাস্টার সার্কুলারের ৬ (এ) ও ৬(বি) বর্ণিত নির্দেশনা পরিপালনের কথা বলা হয়েছে।

ওই সার্কুলার অনুযায়ী, নতুন ঋণ পাওয়ার জন্য ঋণখেলাপিদের অতিরিক্ত হিসেবে তাদের মোট ঋণ বকেয়ার ১৫ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিতে হবে। তবে রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে তা হবে মোট ঋণ বকেয়ার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

গত ২৩ অক্টোবর এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ঋণ পুনঃ তপশিলের বিশেষ নীতিমালার আওতায় নতুন করে আর কোনো আবেদন নিতে পারবে না ব্যাংকগুলো। ওই নীতিমালায় বেঁধে দেওয়া ৯০ দিনের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ থাকলেও এ পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়। ওই সার্কুলারের নির্দেশ অনুযায়ী ১৯ নভেম্বরের মধ্যেই বিশেষ নীতিমালার আওতায় জমা পড়া সব আবেদন ব্যাংকগুলোকে নিষ্পত্তি করতে হতো। এছাড়া আবেদন নিষ্পত্তিকালে নীতিমালার আওতায় পুনঃ তপশিল সুবিধা নেওয়া ঋণগ্রহীতাদের নতুন করে ঋণ না দিতেও নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ৩ নভেম্বর বিগত ২০ বছরে ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিশন গঠন ও ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ১০ বছরের ঋণ পুনঃ তপশিল সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল বিষয়ে জারি করা রুলের রায়ে ঋণখেলাপিদের এ সংক্রান্ত সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে আরো ৯০ দিন বাড়াতে পারে বলে রায় দেন আদালত। গতকাল রবিবার আদালতের ওই রায় স্পষ্টীকরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করল। এতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোট ডিভিশন কর্তৃক ৩ নভেম্বর প্রদত্ত রায়ের আলোকে ঋণগ্রহীতা কর্তৃক আবেদন করায় সময়সীমা আরো ৯০ দিন বৃদ্ধি করা হলো। সার্কুলার জারির দিন থেকে তা গণনা শুরু হবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, ঋণ পুনঃ তপশিল ও এককালিন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃ তপশিল সুবিধাপ্রাপ্তদের পরবর্তীকালে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন ঋণ প্রদান করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে ঋণ পুনঃ তপশিল নিয়ে ২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের মাস্টার সার্কুলারের ৬(এ) ও ৬(বি) তে বর্ণিত নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে। এছাড়া গতকালের সার্কুলারে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ নীরিক্ষা ছাড়াই ঋণ পুনঃ তপশিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত নীতিমালার সুবিধা প্রদান করা যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   

জানা যায়, বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ও সমালোচনার মধ্যেই গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃ তপশিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত ওই বিশেষ নীতিমালা জারি করে। এতে বলা হয়, ঋণখেলাপিরা মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃ তপশিল করতে পারবেন। পুনঃ তপশিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা ১০ বছর। এ ক্ষেত্রে প্রথম এক বছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না। এ বিষয়ে সার্কুলার জারির পরই তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের একজন আইনজীবী।