আদমদীঘিতে চাদর-কম্বলের হাট
আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা
এবার শীতের শুরুতে আদমদীঘির প্রত্যন্ত পল্লি সাওইল হাটে তাঁতিদের তৈরি চাদর কম্বলের দাম কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কারিগররা। ঢাকা, রংপুর, খুলনা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা শীতের গরম কাপড় চাদর ও কম্বল কিনে ট্রাকযোগে নিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে তাঁতশিল্পের মাধ্যমে চাদর, কম্বল, গামছা, মশারি তৈরি করে আজ তারা অভাবকে হার মানিয়েছেন। তবে বর্তমান বাজারে কম্বলের দাম কম হওয়ায় কারিগররা হতাশায় ভুগছেন। তাঁতি পল্লির পুরুষ ও নারী কারিগররা তাঁত মেশিনে গরম কাপর তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই হাট ভোর থেকে বেচাকেনা শুরু হয়। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারদের আগের দিন আসতে হয়। কিন্তু হাটে রাত যাপনের কোনো ব্যবস্থা নেই।
কারিগর মর্জিনা ও সালমা বলেন, বর্তমান বাজারে যে কম্বলের মূল্য পাচ্ছি তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না। সুতা ও রং তৈরির মজুরি ধরলে লোকসানের মধ্যে পড়ে আছি। সরকার প্রতিবছর ত্রাণের যে কম্বল কেনে সেটা যদি সরাসরি আমাদের মতো তাঁতিদের কাছ থেকে কিনতো তাহলে কিছুটা হলেও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারতাম। এভাবে লোকসানে থাকতে থাকতে এক সময় তাঁতশিল্প বন্ধ করে দিতে হবে।
বাজার কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন জানান, হাটে সেড তৈরি অতি জরুরি। সেড না থাকায় খোলা আকাশের নিচে দোকানদারদের বেচাকেনা করতে হয়। জরুরিভিত্তিতে হাটে সেড তৈরি ও সরকারি ত্রাণের কম্বলগুলো সরাসরি তাঁতিদের কাছ থেকে কেনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তিনি।
