কেন বারবার এই দুর্ঘটনা

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪০

তানভীর আহমেদ

আমাদের দেশে সড়ক ও নদীপথে যাতায়াতের মধ্যে রেলপথে যাতায়াতকেই সর্বাধিক নিরাপদ মনে করা হয়। মনে করার পেছনে যৌক্তিক কারণও রয়েছে। রেলপথে যাতায়াতে সময় একটু বেশি লাগলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকার চিন্তা করতে হয় না। চিন্তা করতে হয় না চাকা অচল হয়ে যাওয়ার। রেলে যাতায়াতে কষ্টের চেয়ে আনন্দই বেশি পাওয়া যায়।

ঈদের সময় এত ভিড় হয় যে মাঝেমধ্যে দাঁড়িয়েও যেতে হয়। তবু বেশির ভাগ মানুষই রেলে যাতায়াতকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঘন ঘন রেল দুর্ঘটনা জনমনে ভীতির সঞ্চার করেছে। মানুষের মনে এখন প্রশ্ন, রেলে যাতায়াত সত্যিই নিরাপদ তো?  তাদের ধারণা পালটে যাচ্ছে। কোন পথে যাতায়াত করবে তা নিয়ে  তাদের  ভাবতে হচ্ছে।

রেল দুর্ঘটনা তুলনামূলক কম হলেও তা ভয়ের কারণ। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, এই রেল দুর্ঘটনা কেন হয়? কীভাবে হয়? আর এর দায় আসলে কার? কোন কারণে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা? কেন এসব অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু?

রেল পরিচালনার জন্য প্রতি বছর অনেক লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিটি ক্রসিং, স্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমাণ জনবল আমরা দেখতে পাই। রেলের মধ্যেও পর্যাপ্ত লোক থাকে। রেললাইন মেরামতে এবং দেখাশোনার জন্যও আলাদা জনবল আছে। তবু কেন এসব দুর্ঘটনা? কেন আমাদের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়?

রেল দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে আমরা দুই ট্রেনের সংঘর্ষে সৃষ্ট দুর্ঘটনাও দেখতে পাই। কিন্তু কেন? রেল সিগন্যালগুলো সচল, রেললাইনে পর্যাপ্ত জনবল, তবু দুর্ঘটনা কেন? এর উত্তর পাওয়া যাবে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে এটা কি আমাদের ব্যথিত করে না?

অনাকাঙ্ক্ষিত এসব দুর্ঘটনা আমাদের চরমভাবে ব্যথিত করে। সব সময় আতঙ্কের সঙ্গে চলাচল করতে হয় আমাদের। আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় পরিবারের সবাইকে। শুধু রেল দুর্ঘটনা নয়, বাস ও সড়কপথের অন্যান্য দুর্ঘটনাও আমাদের কাছ থেকে চিরতরে কেড়ে নেয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন বয়সের মানুষকে।

আমরা রেলসংশ্লিষ্ট সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজেদের দ্বায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে হয়তো রেল দুর্ঘটনা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হব। সক্ষম হব জনমনে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে। জনগণ কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই রেল যাতায়াতকে আপন করে নেবে, স্বীকৃতি দেবে সর্বাধিক নিরাপদ যাতায়াতব্যবস্থা হিসেবে। আর এর জন্য  প্রয়োজন যথাযথ পদক্ষেপ, সঠিক দ্বায়িত্ববোধ আর সবার একান্ত সহযোগিতা।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়