বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ প্রতিরোধে সুন্দরবন প্রমাণ করল, সে-ই আমাদের বিপদের সবচেয়ে বড়ো বিশ্বস্ত বন্ধু। সুন্দরবন এক্ষেত্রে ঢালস্বরূপ কাজ করেছে। এই বন না থাকলে উপকূলে ‘বুলবুল’ আরো বড়ো তাণ্ডব চালাত বলে অনেকেই মনে করেন। এর আগে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ মারাত্মক বিধ্বংসী ক্ষমতা নিয়ে আছড়ে পড়লেও সুন্দরবনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ফলে অনেক কম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল; প্রাণহানিও হয়েছিল ধারণার চেয়ে অনেক কম। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল ও তত্সংলগ্ন এলাকার মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় দেয়ালের মতো কাজ করে সুন্দরবন। অথচ ছয় হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এ বনের অস্তিত্ব ক্রমেই বিপন্ন হচ্ছে। এ বন নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন, তাঁরা বলছেন জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম শক্তি সুন্দরবন। অথচ তেলের ট্যাংক ডুবে বনের ভেতরের পানি, পরিবেশ-প্রতিবেশ দূষিত হওয়া, চোরা শিকারি ও বনসংলগ্ন এলাকায় শিল্প-কারখানা নির্মাণ সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাওয়া সুন্দরবন রক্ষায় সকলের সচেতন হওয়া জরুরি।
মো. জিল্লুর রহমান
সতিশ সরকার রোড, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা
