বুড়িগঙ্গা দূষণ নিয়ে হাইকোর্টে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে ওয়াসা

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২২:১৪

বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে হাইকোর্টে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। হলফনামা আকারে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায় অনুসারে বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে ওয়াসার নিষ্ক্রিয়তায় কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেয়। এছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় পুরান ঢাকার ১০টি হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ ২৭টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে ওয়াসা। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার অধিক্ষেত্রে মোট প্রায় ৯৩০ কিলোমিটার পয়োলাইন রয়েছে। উক্ত পয়োলাইনের কোনো মুখ বা আউটলেট বুড়িগঙ্গা কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক জলাধারে পতিত হয় নাই, বরং ঢাকা ওয়াসার নিয়ন্ত্রণাধীন পয়োলাইনের মুখ বা আউটলেট পাগলা পয়ঃশোধনাগারে পতিত হয়েছে। পাগলা পয়ঃশোধনাগারে পতিত পয়োবর্জ্যসমূহ পরিশোধন করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা ওয়াসার নিয়ন্ত্রণাধীনে স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ লাইনের মুখ বা আউটলেট বুড়িগঙ্গা নদীতে পতিত হয়েছে, যার মাধ্যমে শুধু বৃষ্টি বা বন্যার পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে পতিত হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে ২০ ভাগ এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পাইপড সুয়ারেজ-ব্যবস্থা এবং অবিশিষ্ট এলাকায় অনসাইট স্যানিটেশন-ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ঢাকা ওয়াসা সুয়ারেজ মহাপরিকল্পনার আওতায় ঢাকা শহরের প্রায় শতভাগ এলাকায় পাইপড সুয়ারেজ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ৫০০ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এছাড়া এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতায় পাগলা, উত্তরা, মিরপুর ও রায়েরবাজার এলাকায় পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

ওয়াসার পাশাপাশি হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ বলেছে, ঢাকার শ্যামবাজার, চরকালীগঞ্জ, মিলব্যারাক, গোসাইবাড়ী, পোস্তগোলা, কদমতলী, শ্যামপুর, ফতুল্লা, পাগলা বাজার, সদরঘাট, লালবাগ, ওয়াইজঘাট, বাবুবাজার, কেরাণীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, লালকুঠির ৫৫টি এলাকা দিয়ে ওয়াসার স্থাপিত সুয়ারেজ লাইন দিয়ে তরল শিল্প বর্জ্য, হাসপাতালের বর্জ্য, দূষিত পানি, গৃহস্থালি বর্জ্য বুড়িগঙ্গা নদীতে পড়ছে।

সরকারি এই দুটি সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বলেছে, ওয়াসা এফিডেভিট আকারে আদালতে মিথ্য তথ্য দিয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা অপরাধের শামিল।

বন্ধ করার নির্দেশ ১০ হাসপাতালসহ ২৭ প্রতিষ্ঠান

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ১০টি হাসপাতালের পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। এগুলো হচ্ছে সালাহউদ্দিন স্পেশালাইজড, ইসলামী ব্যাংক, সুরাইয়া, ঢাকা হাসপাতাল, ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল, মুন লাইট ক্লিনিক, সাফওয়ান জেনারেল, মেডিকেয়ার ডায়গনস্টিক, রিভারসাইড ও কেজি হাসপাতাল। হাসপাতাল ছাড়াও আরো ১৭টি বিভিন্ন  শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আদালত বলেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান ইটিপি স্থাপন করেনি, তাদের তিন মাস সময় দেওয়া হলো। এই সময়ের মধ্যে ইটিপি স্থাপন করতে না পারলে ঐ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

প্রসংগত, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ রোধে কয়েক দফা নির্দেশনা দেয়। কিন্তু ঐ নির্দেশনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় আবারও আদালতে আবেদন করে রিটকারী ঐ সংগঠন।