গাড়িটা শেষ পর্যন্ত বেচেই দিলাম। দামও পাওয়া গেল অভাবনীয়। আসলে আলসেমি করে বিক্রির কোনো চেষ্টাই করিনি। গিন্নির দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে ওটা শেষমেশ ওজনদরেই বেচা লাগবে। তারপরও অলসের ওপর ওপরওয়ালার যে সদয় দৃষ্টি থাকে, আবারও সেটার প্রমাণ পেলাম। কোথা থেকে কিভাবে যেন খবর পেয়ে ‘ক্রেতা’ আসা শুরু করল।
প্রথমেই যে এলো, গাড়ি দেখেই দাম হাঁকাল ৮ লাখ টাকা। শুনেই আমার মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেল। গলা অষ্টমে তুলে ঝাড়ি দিলাম, ‘মিয়া সিএনজি পাইছেন!’
শুনে ব্যাটা পালটা ঝাড়ি নিল, ‘সিএনজির দাম জানেন? ১০/১২ লাখে সিএনজি কিনবার পারবেন?’
বলেই গটগট করে, ওমা, একটা সিএনজিতে গিয়ে উঠল। তাও আবার চালকের আসনে! তারপর পকেট থেকে একটা সানগ্লাস বের করে চোখে দিয়ে যেন ফেরারির আওয়াজ তুলে ফেরার হলো! পরে শুনি উনি আসলেই সিএনজি চালক। উবার চালিয়ে নিজেই নিজেকে পদোন্নতি দেবার আশায় গাড়ি কিনতে এসেছিলেন।
এরপর আরো বেশ কয়েকজন ক্রেতা এলেন। কেউ ১০ লাখ বলেন, কেউ সাত লাখ। আমি আর ভয়ে কোনো আওয়াজ করি না। তবে দাম মনঃপূত না হলে বেচব না—এই গোঁ ধরে বসেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেই কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা মিলল। কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী। গাড়ি দেখেই পছন্দ করে ফেললেন। সঙ্গে সঙ্গে দামও বললেন। শুনেই আমার চোখে জল এলো। উনাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তাত্ক্ষণিক চাবি সঁপে দিলাম।
এই বাজারে আমার গাড়ির তুলনায় ‘এক ট্রাক পেঁয়াজ’ তো অভাবনীয়ই!
