ধর্মঘটের চিন্তা ছেড়ে আইন মেনে গাড়ি চালান

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪১

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আন্দোলন-ধর্মঘটের চিন্তা ছেড়ে আইন মেনে গাড়ি চালান। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে অনেক বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ ব্যক্তি আছেন। আমি অবাক হয়ে যাই, এমওইউ ও চুক্তির মধ্যে কী পার্থক্য, এটা তারা বোঝেন না। চুক্তি ও এমওইউ এক কথা নয়। এখানে কোনো চুক্তি হয়নি। এখানে তো কিছু গোপন করে করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত প্রকাশের দাবি জানিয়ে বিএনপি রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন ।

চলমান শুদ্ধি অভিযানের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শুদ্ধি অভিযান যে থামেনি তা প্রধানমন্ত্রী সংসদেও বলেছেন, উপজেলা পর্যন্ত এ শুদ্ধি অভিযান চলতে থাকবে। পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে জানতে চাইল ওবায়দুল কাদের বলেন, দুই-তিন দিনের মধ্যে পেঁয়াজ আসা শুরু করলে, পেঁয়াজ নিয়ে হাহাকার কমে যাবে। সড়ক খাতে জি কে শামীমের মতো প্রভাবশালী কেউ আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন—জি কে শামীম আমার এখানে ঢুকতে পারেনি। আমার এখানে যারা কাজ করে, আপনারা ভালো করে জানেন। একটা বিদেশি কোম্পানিকে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করেছি ঘুষ দেওয়ার কারণে।

বিভিন্ন অপকর্ম করে দল থেকে বহিষ্কৃত ‘শটগান সোহেল’ দেশে এসেছে, আরো অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকা আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেখি না, আসুক।  একজন (শটগান সোহেল) তো এসে গেছে, মন্ত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলছে, ফেসবুকে ভাইরাল করছে, আপনার সঙ্গে হয়তো তুলতে পারেনি—এর জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমার মনে হয় না সে ধরনের সুযোগ আছে। তিনি বলেন, ‘এখানে কারো ব্যাপারে কোনো শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই। এখানে প্রাইম মিনিস্টার তার আত্মীয়দেরও রেহাই দেননি, এটা তো আপনাদের বুঝতে হবে।’ শুদ্ধি অভিযানে ব্যবসায়ীরা বিশাল অঙ্কের টাকা উঠিয়ে নিয়েছে—এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রমাণ দেন কোথায় কোথায় টাকা উঠিয়ে নিয়েছে, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রথমে সহনীয় পর্যায়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগে অযথা কোনো বাড়াবাড়ি যাতে না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যত চাপ থাকুক সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন হবে।’ নতুন আইনে জরিমানা আদায় করা মুখ্য উদ্দেশ্য নয় জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, সরকার চায় সবাই আইন মেনে চলুক। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এ আইনের প্রধান উদ্দেশ্য। আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু হয়েছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নতুন আইন মেনে চলা ও যে কোনো প্রকার ধর্মঘট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি আপনাদের আহ্বান জানাব আন্দোলন-ধর্মঘটের চিন্তা ছেড়ে আইন মেনে গাড়ি চালান।

সড়ক পরিবহন আইনে নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে বিশ্বের উন্নত দেশের মতো চালকদের জন্য পয়েন্ট পদ্ধতি রাখা হয়েছে। অপরাধ করলেই পয়েন্ট কাটা যাবে। আবার এবারই প্রথম পরিবহন মালিকদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে। ট্র্যাফিক ওজন সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের বিষয়টি সম্পৃক্ত করা হয়েছে। দূরপাল্লার গাড়িচালকদের গাড়ি চালানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।