ভাঙল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে এবং দলের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে দলটির নেতাদের একাংশ। আবদুল করিম আব্বাসীকে আহ্বায়ক ও শাহাদাত হোসেন সেলিমকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্য বিশিষ্ট এই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই বেলা তিনটায় প্রেসক্লাবেই পালটা সংবাদ সম্মেলন করে অলি আহমদ বলেছেন, ‘এলডিপি আমার, এলডিপি আমার নামে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। অন্য কারো এলডিপি নামে দল করার অধিকার নেই।’ প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে ২৬ মার্চ এলডিপি গঠিত হয়। এলডিপি প্রতিষ্ঠায় অলি আহমদের সঙ্গে দ্বিতীয় মুখ্য ভূমিকা রাখেন দলের এতদিনের যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। অলি আহমদ গত ৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করে ২০৩ সদস্যের যে কমিটি ঘোষণা করেন, তাতে আগের কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল করিম আব্বাসী ও যুগ্ম মহাসচিব সেলিমকে বাদ দেন। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ সেলিম বলেন, ‘২০০৬ সালে আমরা এলডিপি গঠন করে যে অন্যায় করেছি, যে পাপ করেছি বিএনপি আমাদের সেই অন্যায় ও পাপকে প্রায়শ্চিত্ত করার একটা সুযোগ দেবে।’ আবার বিএনপিতে ফিরতে চান কি না, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সারাজীবন জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করেছি, ডাক পেলে অবশ্যই ফিরে যাব। উল্লেখ্য, শাহাদাত হোসেন সেলিম চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, পরে আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন।
আবদুল করিম আব্বাসীর নেতৃত্বে এলডিপির নতুন কমিটি ঘোষণা করেন সেলিম। কমিটিতে শাহাদাত হোসেন সেলিমকে সদস্য সচিব হিসেবে এবং আবদুল গণি, এম এ বাশার, সৈয়দ ইব্রাহিম রওনক, তৌহিদুল আনোয়ার ও কাজী মতিউর রহমানকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। নবগঠিত কমিটি সারা দেশে এলডিপির নেতা-কর্মীদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নেবে বলে সেলিম জানান।
সেলিম বলেন, অলি আহমদের সাথে রাজনীতি করা যায় না। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি যেভাবে অকুণ্ঠভাবে জামায়াতকে সমর্থন দিচ্ছেন, যেভাবে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন, তা তিনি দিতে পারেন না—এটা উনাকে আমরা মুখের উপরে বলেছি। এজন্য আমাদের সাথে তার বিভেদ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, নবগঠিত এই সমন্বয়ক কমিটির মাধ্যমে এলডিপি বিএনপির সাথে যুক্ত থাকবে এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে থাকবে। এই সংবাদ সম্মেলনে এলডিপির গত কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল গণি, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ বাশার, সৈয়দ ইব্রাহিম রওনক, তৌহিদুল আলম আনোয়ার এবং দপ্তর সম্পাদক কাজী মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকালে সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ বলেন, বাবা সন্তানকে ত্যাজ্য করতে পারেন, ছেলে কি তা পারে? এলডিপি থেকে বাদ পড়ে যারা নতুন কমিটি করেছে, তারা আমার ভাইয়ের মতো ও সন্তান সমতুল্য। বাংলাদেশে বহু দল আছে, তারাও না হয় আরো একটা করল, তাতে ক্ষতির কি আছে? যারা নতুন কমিটি করেছে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নয় যে, তাদের নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ কোনো অবস্থাতেই প্রতিশোধ এবং প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। অলির সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমদ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসান হুদা ও জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
