হংকংয়ে সহিংসতা চলছেই অনেক বিক্ষোভকারী গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪৯

হংকংয়ে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার একটি ইউনিভার্সিটিতে অবস্থান নেয় বিক্ষোভ-কারীরা। সারারাত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ছোটো ছোটো সহিংস সংঘর্ষ চলে। পুলিশের ঘিরে রাখা ক্যাম্পাস থেকে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীরা পালানোর চেষ্টা করার সময় তাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে চীন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে খাটো করে দেখা উচিত নয়। খবর বিবিসির

গতকাল ভোরে পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি থেকে প্রায় ১০০ জনের একটি গ্রুপ বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গেলে তারা টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটের সম্মুখীন হয়। এ নিয়ে তৃতীয়বার তারা ক্যাম্পাস ত্যাগের চেষ্টা করল। এখানকার ঘটনার বেশ কিছু ছবি বেরিয়েছে, যাতে দেখা যায় টিয়ার গ্যাসের ঘন ধোঁয়ার       মধ্যে পুলিশ বিক্ষোভকারী ধরে মাটিতে শুইয়ে ফেলেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রায় ১ হাজার বিক্ষোভকারী আছে বলে হংকংয়ের একজন গণতন্ত্রপন্থি এমপি জানিয়েছেন। পুলিশ এর আগে বলেছিল যে বিক্ষোভকারীরা চিওং ওয়ান রোড সাউথ ব্রিজ যা ক্যাম্পাস থেকে বেরুনোর আরেকটি পথ তা দিয়ে তারা বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু তাদেরকে অস্ত্র ফেলে দিয়ে গ্যাস মুখোশ খুলে ফেলতে হবে।

এর আগে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে এবং নানা জায়গায় আগুন লাগায়। জানা যায়, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলার সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডের পেছন থেকে পুলিশের দিকে পেট্রোল বোমা ও তির ছুড়ে মারলে পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির প্রবেশপথে বড়ো ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তারা এর কিছুক্ষণ আগেই বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দেয় যে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে পুলিশের ওপর হামলা বন্ধ করা না হলে তারা বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি ছুঁড়বে। গত কয়েকমাস ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে অস্থিরতা বিরাজ করছে হংকংয়ে। তবে আধাস্বায়ত্ত্বশাসিত এই চীনা নিয়ন্ত্রণাধীন শহরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে।

বেইজিংয়ের হুঁশিয়ারি

ব্রিটেনে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চীনের সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা এবং হংকংয়ের স্থিতিশীলতাকে কারো খাটো করে দেখা উচিত নয়। তিনি বলেন, হংকংয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় সরকার বসে বসে দেখবে না।