পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৫০

টানা কয়েক দিন দেশ জুড়ে পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর অবশেষে দামের নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে। বিদেশ থেকে বিমানযোগে বিপুল পেঁয়াজ আমদানির খবর শুনে মজুতদারেরা দাম পড়ে যাওয়ার আতঙ্কে বাজারে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে লুকিয়ে রাখা পেঁয়াজ। ফলে এক রাতের ব্যবধানেই খুচরা বাজারে এই পণ্যের দাম কমে গেছে স্থানভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া গতকালও দেশের অনেক স্থানে পেঁয়াজ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে মোবাইল কোর্ট। জরিমানা করা হয়েছে অনেককে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে             ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

জানা গেছে, দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের বাজারে হঠাত্ কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। এই বন্দরের খুচরা বাজারে এক দিনে কেজিপ্রতি দাম কমেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে। বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ না এলেও হঠাত্ সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ, পেঁয়াজ পচে যাওয়ার আশঙ্কাসহ বিভিন্ন কারণে মজুতদারেরা পেঁয়াজ ছাড়তে শুরু করেছেন বলেই সরবরাহ বেড়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজারের পেঁয়াজবিক্রেতা মনিরুল ইসলাম মনির জানান, এতদিন যে পেঁয়াজের দেখাই মিলছিল না, হঠাত্ করেই এর সরবরাহ বেড়েছে। ফলে কম দামে কিনতে ও বিক্রি করতে পারছেন। তবে কোথা থেকে এসব পেঁয়াজ আসছে, সে ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।

অপরদিকে, রাজশাহীর পেঁয়াজ উত্পাদন এলাকা বাঘায়ও এক দিনের ব্যবধানে ২৫০ টাকা কেজির পেঁয়াজ ১৬০ টাকায় নেমে এসেছে। গতকাল সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাঘা বাজার পরিদর্শনে গেলে পেঁয়াজের দাম এক লাফে ৯০ টাকা কমে যায়। তখন অনেকে স্বস্তিতে পেঁয়াজ কিনে ঘরে ফেরে। বাজারে আসা সুলতান সরকার বলেন, এক ঘণ্টা আগেও দোকানদারেরা ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। অথচ যেই না প্রশাসনের লোকজন বাজার তদারক করতে এসেছেন, সঙ্গে সঙ্গে তা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় নেমে এলো। তাহলে তো বোঝাই যাচ্ছে, পুরো বিষয়টা সিন্ডিকেটের কারসাজি।

মাগুরায়ও পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। গতকাল সোমবার মাগুরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৭০ টাকা কম। পাইকারিতে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে।

দিনাজপুরের বিরামপুরে এক রাতেই কেজিপ্রতি দাম ৮০ টাকা কমে গেছে। রবিবার সেখানে ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এক রাতের ব্যবধানে গতকাল কেজিপ্রতি দাম নেমে এসেছে ১৫০ টাকায়।

এদিকে, মাদারীপুরের টেকেরহাটে পেঁয়াজের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাত্ক্ষণিক দাম কমে যায় কেজিতে ৫০ টাকা। এ খবর সব বাজারে পৌঁছে যাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ২৫০ টাকা থেকে নেমে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি শুরু হয়ে যায়। বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ী  মো. খোকন খালাশী, শফিকুল ও রিপন প্রত্যেককে ৫ হাজার, চুন্নু ও পলাশকে ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। 

এর বাইরে নাটোরের দুটি বাজারে অভিযান চালায় জেলা পুলিশ। দুপুরে নাটোর নীচাবাজারে দেখা যায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালাচ্ছে। এ সময় ১৬০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের।

একই দিন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে দুই পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বিকেলে উপজেলার মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকার কাঁচাবাজারে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়।

এর বাইরে আরো অনেক জেলায় পেঁয়াজের দাম কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংবাদদাতারা জানিয়েছেন।