মোজাহেদুল ইসলাম
বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার করা একটি উদ্বেগজনক ও হতাশার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই শপথ নিচ্ছি যে, ইন্টারনেটে আমরা সময় কম ব্যয় করব; কিন্তু আমরা সংগীতের প্রতি প্রেমের মতো এটিকে এড়িয়ে চলতে পারছি না। ধীরে ধীরে মানুষ মানবতার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সাধারণ একটি বিড়ালের ভিডিও নিয়েও ওয়েব অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। এমন যদি হয় তাহলে আপনি বিজয়ী।
একজন দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে গাইডলাইন লেখার জন্য উত্সাহিত করা যেতে পারে। এতে করে আপনি অনলাইনে কোনো পোস্ট দিলে পোস্টটি সম্পর্কে আপনাকে বিভন্ন প্রশ্ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে আপনি যখন কোনো পোস্ট অনলাইনে দিবেন তার আগে নিজেকে এই প্রশ্নগুলো আবার করতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়ার আগে নিজেকে যে প্রশ্নগুলো করতে পারেন সেরকম কয়েকটি প্রশ্নের বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো এ লেখায়।
আমি যে বিষয়ে বলছি সে বিষয়ে আমি কি কিছু জানি?
বিষয়টি একটি মস্তিষ্কের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। আমরা যে বিষয়ে কথা বলি বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেই ঐ বিষয়টির ঘৃণিত দিক সম্পর্কে আমরা কতটা জানি? কোনো বিষয়ে নিজেকে অভিজ্ঞ মনে করাও দোষের নয়।
যদিও বই ও লাইব্রেরির মতো ডিজিটাল নয় এমন তথ্যের ভান্ডার অনেক। আপনি যদি স্থানীয় লাইব্রেরিতে ভিজিট করতে না পারেন তাহলে উইকিপিডিয়া স্ক্যান করে নিতে পারেন যা কোনো কিছু না থাকার চেয়ে অনেকাংশেই ভালো।
তবে মনে রাখা ভালো যে, উইকিপিডিয়ার খোঁজ করলেই আপনি বিশেষজ্ঞ হবেন না। এ বিষয়ে আপনার মতামত পুরোপুরি সঠিক হবে তেমনও নয়। আপনার মতামত শুধু আপনার মতামতই।
আপনার জীবনের অনেক অভিজ্ঞতা আপনি কিছুটা হলেও অন্তর্দৃষ্টি করতে পারেন। উদাহারণ হিসেবে বলা যেতে পারে—আপনি কোনো ইতিহাসবিদ, আপনি ফ্যাসিবাদের ইতিহাস নিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং এ কারণে আপনি হুমকির শিকার হয়েছেন। হ্যাঁ, সমাজ আপনার অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চায়।
আমি কি মিথ্যা তথ্য শেয়ার করছি?
২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনের পরে আবিষ্কার হয়েছে, অনলাইনে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিতে রাশিয়া একটি বড়ো ভূমিকা পালন করেছিল। দুঃখের বিষয় হলো—অনেক মার্কিনি রাশিয়ার এ ফাঁদে পড়ে। তবে সব ফেক নিউজ রাশিয়ার ছিল না। কিছু মার্কিনি ফায়দা লুটতে ক্লিকবাইট আর্টিকেল তৈরি করে। যদিও এমন ওয়েবপেজ শনাক্ত করা কখনো কখনো সহজ হয়। অনলাইনে ছড়ানো ফেক নিউজের তথ্য নিয়ে সহজেই গবেষণা করা যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক নিউজ শনাক্ত করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযাচিত পোস্টগুলো চিহ্নিত করা সহজ। টুইটারে সাঠিক নিউজের চেয়ে ফেক নিউজ বেশি শেয়ার হতে দেখা যায়।
আসলে শুধু কি আমিই এ ব্যাপারে পাগল, না সবাই এ চলন্ত ট্রেনে উঠছে?
আমি যদি অনুভব করি যে, আমার মধ্যে কিছু ভর করেছে। এটা উপলব্ধি করা মোটামোটি সহজ। আপনি যদি টুইটারে বেশি সময় দিয়ে থাকেন এবং এতে ছড়ানো নিউজে বেশি সময় দিয়ে থাকেন। দেখবেন কোনো পোস্টে কেউ যদি উদ্বেগ বা রাগান্বিত কোনো বিষয় ছড়ায় তাহলে সহজেই তাতে অনেক লোক যুক্ত হয়; কিন্তু কেন?
যৌথ মতামতের পক্ষে যোগ দেওয়া সহজ; কিন্তু এর বিপক্ষে যাওয়া কঠিন। অধিকাংশ মতামতের পক্ষে থেকে কোনো বিষয়ে সহজে হুমকির দিকে নিয়ে যেতে পারেন। এর চেয়ে ভালো আপনি অধিকাংশ মতামতের বাইরে এসে নিজের মতামতের প্রধান্য দিতে পারেন। এতে যা-ই হোক, কোনো বিষয় ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে না।
মনে রাখা ভালো, আপনি যদি কোনো গ্রুপ মতামতের পক্ষে থাকেন তবে আপনি একা নন।
আমি কি আমার পয়েন্টটি সঠিক পদ্ধতিতে পাচ্ছি?
ইন্টারনেট আমাদের নির্বাক করে দিয়েছে। আমরা ভুলে যাচ্ছি যে, আমরা ব্যাকরণ ও বানান পরিত্যাগ করছি। আমরা নিরর্থক মতামত শেয়ার করছি। আমরা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছি। আমরা ভীত জাতিতে পরিণত হচ্ছি এবং অনলাইন কার্যক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ছি ধীরে ধীরে। আমরা অনেকেই এ বিষয়টি ভিন্ন ভিন্নভাবে উপভোগ করছি। আমরা কম্পিউটারে লুকিয়ে থাকা লর্ড ক্লাইভের সন্তান হিসেবে পরিণত হচ্ছি। সূত্র : মিডিয়াম ডটকম
