বান্দরবান প্রতিনিধি
জুম চাষের পরিবর্তে পাহাড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ড্রাগন ফলের চাষ। পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ করে লাভবান হয়েছে অনেকে। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ম্রো জনগোষ্ঠীর চাষি তোয়ো ম্রো। চিম্বুক পাহাড়ের বসন্তপাড়ায় তিন একর পাহাড়ি জমিতে পাকা পিলারের পরিবর্তে ভিন্ন পদ্ধতিতে মেহগনি গাছের ওপরের অংশ কেটে ৪৬০টি গাছের গোড়ায় এক হাজার ৫৩০টি ড্রাগনের চারা লাগান এ চাষি।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় বান্দরবানে জুম চাষ পরিত্যাগ করে বিদেশি ফল ড্রাগনের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে পাহাড়ি চাষিরা। পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ করে ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেছেন ম্রো জনগোষ্ঠীর চাষি তোয়ো ম্রো। জেলার চিম্বুক-নীলগিরি সড়কের বসন্তপাড়ায় প্রায় ২০ একর পাহাড়ের উঁচু-নিচু ঢালু জমিতে মিশ্র ফলের বাগান রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম দফায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দেড় একর পাহাড়ি জমিতে ৭৫টি পাকা পিলারের খুঁটিতে ৩০০ ড্রাগন চারা লাগিয়ে ড্রাগন চাষে সফলতা পান এ চাষি। ছয় মাস পর বাগানে উত্পাদিত ড্রাগন বিক্রি করে আয় করেন এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। লাভজনক হওয়ায় ২০১৭ সালে ভিন্ন পদ্ধতিতে বাগানের অপর পাশে সৃজিত তিন একর জমির বনজ মেহগনি গাছের ওপরের অংশ কেটে ফেলে পাকা পিলারের পরিবর্তে কেটে ফেলা ৪৬০টি বনজ গাছের গোড়ায় ১ হাজার ৫৩০টি ড্রাগন ফলের চারা লাগান। এছাড়া ৫০টি পিলারের গোড়ায় ৩৩০টি ড্রাগন ফলের গাছের চারা রোপণ করেন।
চিম্বুক পাহাড়ের বসন্তপাড়ার চাষি তোয়ো ম্রো বলেন, বাগানে দুই হাজার ড্রাগন গাছে ফল এসেছে। ইতোমধ্যে ড্রাগন ফল বিক্রি করে ৪ লাখ টাকার মতো পেয়েছি। বাগানে আরো অনেক ফল রয়েছে। ছয় মাস সময় পর্যন্ত ১৮ থেকে ২১ দিন পরপর বাগান থেকে ড্রাগন ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করা যাবে। বাগানে লাল, সাদা, গোলাপি ও পিং—এই চারটি রঙের ড্রাগন উত্পাদিত হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি ড্রাগন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। তবে স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত হওয়ায় ড্রাগনের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। আগামীতে এ ফলের চাহিদা আরো বাড়বে। আমার বাগানে উত্পাদিত ড্রাগন ফল কিনে বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীরা ঢাকা এবং চট্টগ্রাম নিয়ে যাচ্ছে।
বসন্তপাড়ার চাষি রেংরাং ম্রো বলেন, অলাভজনক জুমচাষ এখন ছেড়ে দিচ্ছে ম্রো চাষিরা। তোয়ো ম্রোর বাগান থেকে ড্রাগনের চারা সংগ্রহ করে বসন্তপাড়াসহ আশপাশের পাহাড়ি গ্রামগুলোর অনেকে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেছে। কৃষিবিদদের মতে, বর্তমানে ভিয়েতনামে ফলটি বেশি চাষ হচ্ছে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম ড্রাগন ফলের গাছ নিয়ে আসা হয়।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম নাজমুল হক বলেন, পাহাড়ে ড্রাগন ফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি ফল হলেও পার্বত্য অঞ্চলের জলবায়ু এবং মাটি দুটোই ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী। ড্রাগন ফল একটি লাভজনক চাষ। কম পরিশ্রমে ছোটো জায়গার মধ্যেও ড্রাগন ফলের চাষ করা সম্ভব। শখেরবশে অনেকে বাড়ির ছাদে এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিসের সামনে-পেছনে ড্রাগনের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে।
