রাজধানীতে ধানের শীষের ঢিলেঢালা প্রচারণা

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৩১

ঘনিয়ে আসছে ভোটের দিন। মাঝে আর মাত্র ১৩ দিন। প্রার্থীরা এখন ভোটারদের মন জয় করার নিরন্তর চেষ্টায় ব্যস্ত। চারপাশে কেবল প্রচার মাইকে শ্লোগান-কোরাস:’ভোট দিন,ভোট দিন/অমুক ভাইকে ভোট দিন....। পোস্টারে পোস্টারে সয়লাব অলিগলি-সড়ক। জমে ঊঠেছে তিন চালার প্রচার ক্যাম্পে আড্ডা । সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকার দৃশ্যপটও প্রায় অভিন্ন। তবে প্রচার প্রচারনায় ধানের শীষের অবস্থা বড় গৌণ। ঢাকা শহরের অলিগলিতে ঘুরে কোথাও চোখে পড়ছে না ধানের শীষের কোন পোস্টার,ক্যাম্প বা মাইকিং। সবখানে লক্ষ্য করা গেছে নৌকার প্রচার দাপট। ভোট চাইতে ঢাকঢোল বাদ্য বাজনা নিয়ে অলিগলি সড়কে সড়কে ঘুরছেন তাদের প্রার্থীরা। কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। উন্নয়ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে লিফলেট বিতরন করছেন।


 
কিছু কিছু এলাকায় নৌকার আশেপাশে ঝুলছে ’লাঙল’ ও ’হাতপাখা’র পোস্টারও। তবে ধানের শীষ নেই। কেনো নেই? এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,প্রচারে নামলেই হামলা করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। পোস্টার টানাতে গেলেও মারধর করা হচ্ছে। কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নেই। তারপরও শেষ পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। মির্জা ফখরুল বলেন, ইসিতে গিয়ে সারা দেশে মামলা-হামলার পরিস্থিতি তুলে ধরা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটা ঠুঁটো জগন্নাথ। আমার ওপর হামলা হয়েছে। ড.কামাল হোসেন,আ স ম আবদুর রব,ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের মতো নেতার ওপর হামলা হয়েছে। ইসিতে নানাভাবে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। নির্বাচন কমিশন অসহায়। তাহলে আমরা কিভাবে প্রচারনা চালাবো?

এদিকে দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনেই বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলাগুলো সংঘটিত হয়। সকল আসনেই বিএনপি প্রার্থীর পোষ্টার লাগাতে বাধা দেয়া হয়েছে, পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। প্রায় সকল প্রচারণার মাইক ভাংচুর করা হয়েছে, ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ৩০০ আসনেই গণগ্রেফতার চলছে।

বেগম খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে আইনী জটিলতা সৃষ্টি করে প্রার্থী হওয়া অনিশ্চিত করে রাখা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য ও কার্যকলাপ পুলিশের ভয়ঙ্কর দমনের প্রবণতাকে আরও উস্কিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে গত সাতদিনে ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ আসনের আফরোজা আব্বাস এবং ঢাকা-৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা গণফোরামের মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও ঢাকা-১৭ আসনে আন্দালিব রহমান পার্থ ছাড়া কাউকে প্রকাশ্যে প্রচারণায় নামতে দেখা যায়নি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করলেও নিজ নিজ এলাকার দেয়ালে তাদের কারো পোস্টার চোখে পড়েনি। ঢাকা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও গনফোরাম নেতা এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী গতকাল শনিবার ধুপখোলা মাঠ এলাকায় প্রচারনা চালাতে গিয়ে ধাওয়ার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ লাঠিসোটা নিয়ে মিছিলে হামলা করে। হামলা থেকে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটির বিভিন্ন ইউনিটে গণসংযোগ করেন। ঢাকা-১৪ আসনের সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু মিরপুর শাহ আলী মার্কেট এলাকায় গণসংযোগ করেন। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে গণসংযোগ করেন। ঢাকা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচার চালান। ঢাকা-৫ আসনের নবীউল্লাহ নবী সকালে উত্তর যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এ এলাকার বিভিন্ন মসজিদ-মন্দিরে আগত মানুষের কাছে ভোট চান তিনি।

উত্তরার জসিম উদ্দিন এভিনিউ ৩নং সেক্টরে গণসংযোগ করেন ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। প্রচারপত্র বিলি করেন তিনি। স্বপন জানান, আরামবাগে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ধানের শীষের পোস্টার জোর করে নিয়ে গেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

ইত্তেফাক/নূহু