ঈশ্বরদীতে মোকামে চাল কেজিতে চার থেকে ছয় টাকা বেড়েছে

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২২:১৯

ঈশ্বরদীর জয়নগর মোকামে চালের পাইকারি ও খুচরা দাম বেড়েই চলেছে। মোকামে দর বৃদ্ধির ফলে খুচরা বাজারে চালেরও দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে চার থেকে ছয় টাকা। গত ১০ দিন ধরে হঠাত্ চালের দর ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা।

এদিকে ধানের অভাবে ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়েছে শত শত চালকল ও চাতাল। জয়নগর মোকামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালের দাম বাড়ার আগেই এই মোকামে প্রায় ৭ শতাধিক হাস্কিং চালকল ও চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল জয়নগর এলকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পর্যাপ্ত ধানের অভাবে এবং বেশি দামে ধান কিনে ভাঙিয়ে চাল বাজারজাত করে অব্যাহতভাবে লোকসান গুণতে হয়েছে। এছাড়া অটো রাইস মিলের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন হাস্কিং মিলের মালিক ও ব্যবসায়ীরা। এসব সমস্যার কারণেই ঈশ্বরদীর সহস্রাধিক চালকল ও চাতালের বেশির ভাগই বন্ধ হয়ে গেছে।

চালকল মালিক গ্রুপ ও মিল মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী ঈশ্বরদীর জয়নগর, মিরকামারি, বরইচারা, সাহাপুর, দাশুড়িয়া, মুলাডুলিসহ মোকামে বর্তমানে ৫০টির মতো কল চালু আছে। বাকিগুলো বন্ধ। এসব মিল ও চাতালে কর্মরত প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। উপজেলা ধান-চাল মালিক গ্রুপের সভাপতি ফজলুর রহমান মালিথা জানান, এলাকায় একের পর এক অটো রাইস মিল চালু হওয়ায় হাস্কিং মিল মালিকেরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন।

জয়নগের ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম জানান, ধান-চালের বৃহত্তম এই মোকামে পাইকারি বাজারে বাঁশমতি ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা, মিনিকেট ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা, আটাশ ১ হাজার ৬০০ হতে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ঊনত্রিশ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, মোটা চালের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে।

চালের বাজার দরের হঠাত্ ঊর্ধ্বগতির পেছনে মোকাম ও মিল মালিকদের কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। চালকল মালিকরা জানান, ৩১ অক্টোবর সরকারিভাবে আমন মৌসুমে ধানের দাম কেজিপ্রতি ২৬ টাকা ধার্য করায় বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি ধানের দাম ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে ধানের দাম যে হারে বেড়েছে, চালের দাম সে তুলনায় খুব বেশি বাড়েনি বলে চালকল মালিকরা দাবি করেছেন।