জামালপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর স্বামীকে ফাঁস দিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩০

জামালপুরে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতন এবং তার স্বামীকে (৩৫) গলায় রশি পেঁচিয়ে বাড়ির পাশে কাঁঠালগাছে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে ধর্ষকেরা। জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার সকালে নির্যাতিত নারীর স্বামীর লাশ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ধর্ষক         ছানোয়ারের বাড়ি থেকে গাছে বেঁধে রাখা অবস্থায় ঐ গৃহবধূকে উদ্ধার করে জমালপুর সদর থানার পুলিশ। স্বামীর লাশের সঙ্গে গৃহবধূকে থানায় নিলেও সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বললেও প্রথমে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলা গ্রহণ করা হয়নি, বরং অপমৃত্যুর মামলা করা হয়।

তবে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হলে সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় মামলা নেয় পুলিশ। গৃহবধূ বাদী হয়ে থানায় ধর্ষক ছানোয়ার, শাওন ও রফিজকে আসামি করে মামলা করেছেন। রাতেই সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেমুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক শাউনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেমুজ্জামান জানান, ‘আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তিন জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।’

তবে প্রথমে স্থানীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আজিজুল হকের বিশেষ তদবিরে পুলিশ হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ঐ নারী ও তার পরিবার। ঐ চেয়ারম্যান ঘটনার পর ঐ নারী ও তার পরিবারকে গত চার দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখে। গত সোমবার রাতে পালিয়ে জামালপুর প্রেসক্লাবে আশ্রয় নিয়ে ঐ নারী ও তার পরিবার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। একই দিন রাত ১০টার দিকে ঐ নারী সাংবাদিকদের সহযোগিতায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।

কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. হাসানুল বারী শিশির জানান, গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধরণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এসআই গুলজার হোসেন বলেন, ‘ভিকটিম গণধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা আমাকে জানিয়েছে, আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’ ঘটনার পরদিন সকালে জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাশেদুল হাসান বলেন, ‘দুই বউয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে বলে জেনেছি।’

নির্যাতনের শিকার ঐ গৃহবধূ হাসপাতালের বেডে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঘর থেকে বাইরে বের হলে প্রতিবেশী ছানোয়ার, শাওন ও রফিজ উদ্দিন তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ছানোয়ারের বাড়ির পেছনে একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। ঐ সময় ছানোয়ারের বাড়িতে গৃহবধূকে আটকে রেখে তার স্বামীকে ডেকে এনে মারধর করে হত্যার পর তার লাশ বাড়ির পাশে একটি গাছে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশও একটি অপমৃত্যুর মামলা করে। হাসপাতালে ভর্তির সহযোগিতা করায় শ্বশুর ও মামাশ্বশুরকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে প্রাণনাশের হুমকি দেন চেয়ারম্যান আজিজুল হক।

স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হানের মোবাইলে চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, ‘আমার ছেলেদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হলে কাউকে ছাড়ব না। ঐ গৃহবধূ খারাপ ও নষ্টা।’