বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসীর ওপর হামলা

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:৩৩

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের নুনেরটেক এলাকায় মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসীর ওপর হামলা করেছে বালু সন্ত্রাসীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বালু সন্ত্রাসীদের হামলায় ট্যাটাবিদ্ধসহ পাঁচ গ্রামবাসী আহত হয়েছে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা চলছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সোনারগাঁও থানার পুলিশ চারটি ড্রেজার আটক করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মেঘনা নুনেরটেক বালুমহালটি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ঐ এলাকায় কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সরকারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে নুনেরটেক বালুমহালে অবৈধভাবে ২০-২৫টি ড্রেজার বসিয়ে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে নুনেরটেক এলাকার রঘুভাঙ্গা এলাকায় নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ড্রেজারের মাধ্যমে নুনেরটেক এলাকায় বালু উত্তোলন করতে গেলে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ধাওয়া দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বালু সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র, ট্যাটা, বল্লম, লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় বালু উত্তোলন করতে আসে। পরে গ্রামবাসী আবার ধাওয়া করতে গেলে বালু সন্ত্রাসীদের ছোড়া ট্যাটায় নুনেরটেক রঘুনার চর গ্রামের ইমামউদ্দিনের ছেলে দিলবর হোসেন (৪৫) আহত হয়। এছাড়া জুয়েল, সাদ্দাম, আমজাদ ও আবুল হোসেন আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় মঙ্গলবার বিকালে সোনারগাঁও থানার পুলিশ এমভি মাতাব্বর ড্রেজিং, মা-বাবার দোয়া, এমভি জিন্নাত ও এশিয়া সুপার নামের চারটি ড্রেজার আটক করে।

নুনেরটেক গ্রামের আবুল হাসেম জানান, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সরকারের লোকজন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রামবাসী তাদের প্রতিহত করার জন্য ধাওয়া দিলে বালু সন্ত্রাসীরা পিস্তল, ট্যাটা, বল্লম ও লাঠিসোঁটা নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা করে। এতে পাঁচ গ্রামবাসী আহত হয়। অভিযুক্ত চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে চারটি ড্রেজার আটক করা হয়েছে। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার জানান, নুনেরটেক বালুমহালে কোনো অবস্থাতেই বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে নিয়মিত মেঘনা নদীতে অভিযান চালানো হবে।