নূরুল করিম
শিশুদের চলচ্চিত্রের কথা উঠলে হাতেগোনা কয়েকটির কথাই সামনে আসে। গুপী গাইন বাঘা বাইন, ছুটির ঘণ্টা, দীপু নম্বর টু, বাড়ি থেকে পালিয়ে, এমিলের গোয়েন্দাবাহিনী কিংবা আমার বন্ধু রাশেদ। তখনকার শিশুদের মনের খোরাক মিটিয়ে মুগ্ধ করছে এই প্রজন্মকেও। দিন যত যাচ্ছে, চাহিদা কিংবা চারপাশের চিত্র পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু এখনকার শিশুমন, কল্পনা ও চারপাশের জগত্ শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে কী? দেশে তো হচ্ছেই না, যেন এসব নিয়ে ভাবারও সময় নেই কারো! অথচ হলিউড, বলিউডে শিশুদের কথা মাথায় রেখে প্রতিমাসেই মুক্তি পাচ্ছে চলচ্চিত্র। শিশুদের সুস্থ বিনোদনের কথা মাথায় রেখে ওপার বাংলাও পিছিয়ে নেই। কিন্তু আমাদের এখানকার চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। গত ১০ মাসে প্রেক্ষাগৃহে দেশীয় শিশুতোষ চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে মাত্র একটি! গত ২৬ জুলাই স্বল্প পরিসরে মুক্তি পায় কবি নির্মলেন্দু গুণের লেখা ও মৃত্তিকা গুণের পরিচালনায় ‘কালো মেঘের ভেলা’। স্বল্পদৈর্ঘ্যের জন্য সরকারি অনুদান পেলেও বহু খাটাখাটনি করে গল্পটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছেন পরিচালক। এছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকারের অনুদান পাওয়া ‘পঞ্চসঙ্গী’র প্রিমিয়ার হয় ২৮ সেপ্টেম্বর। তাও প্রেক্ষাগৃহে নয়, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায়। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি অনুদান না পেলে কেউ সিনেমা বানাতে চায় না।
খ্যাতনামা শিশুতোষ চলচ্চিত্র পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন কোনো অভিভাবকই শিশুদের নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখেন না। অথচ এক সময় পড়াশোনা, খেলাধুলার পাশাপাশি সিনেমাটাও থাকতো। সর্বশেষ আমার আঁখি ও তার বন্ধুরা ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে নির্মাতারা আগ্রহ হারিয়েছেন। অভিভাবক ও সরকারের সহযোগিতা থাকলে ভালোমানের শিশুতোষ চলচ্চিত্রের সংখ্যা বাড়বে।
দেশে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের জোয়ার উঠেছিল স্বাধীনতার পরপরই। কিন্তু হটাত্ করেই আবার থমকে যায়। সে কারণে সংখ্যাটা একেবারেই নগণ্য। এখন বছরে দু-একটা নির্মাণ হলেও সেগুলো অনুদানের। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অভিভাবকদের অসচেতনতা এ ধরনের ছবির বাজার তৈরি না হওয়ার একটি বড় কারণ। বাজেট, গল্প ও নির্মাতাদের আগ্রহের অভাব তো রয়েছেই।
চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘বাচ্চাদের ছবি অনেক কমে গেছে। শুধু কী ওদের? বাণিজ্যিক সিনেমারও অবস্থাও তো খারাপ।’
তবে নির্মাণের সংখ্যা একেবারে নগণ্য হলেও দেশের চলচ্চিত্র উত্সবগুলোতে ঠিকই দেশি-বিদেশি অসংখ্য শিশুতোষ সিনেমা দেখানো হয়! অথচ দেশের শিশুদের কথাও ভাবা দরকার!
