হারিয়ে যাওয়া জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ২০:১৭

প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে হয় আমাদের। আবার অনেক প্রযুক্তিকে বিদায়ও দিতে হয়। তবে এমন অনেক প্রযুক্তি রয়েছে যেগুলোকে বিদায় দিলেও সেটিকে ব্যবহারকারীরা মনে রাখে যুগের পর যুগ। এমন কয়েকটি জনপ্রিয় প্রযুক্তির কথা তুলে ধরা হলো এ লেখার মাধ্যমে।

লিখেছেন মাহবুব শরীফ

অরকুট

সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট হিসেবে অরকুটের যাত্রা প্রায় ফেসবুকের সাথেই। শুরুর দিকে ফেসবুক বা টুইটারের মতো এটিও বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে এর জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ভারত, রাশিয়া ও ব্রাজিলের মতো কয়েকটি দেশেই চালু ছিল অরকুট। গুগল কিনে নিয়েও বাঁচাতে পারেনি অরকুটকে। অবশেষে ২০১৪ সালে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে একে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করে গুগল। এর মাধ্যমে অবসান ঘটে সামাজিক যোগাযোগের একটি যুগের।

 

 

উইন্ডোজ এক্সপি

মাইক্রোসফটের সবচেয়ে জনপ্রিয় উইন্ডোজ সংস্করণ বলা হয় উইন্ডোজ এক্সপিকে। বলা যায় বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে শাসন করেছে এই অপারেটিং সিস্টেমটি। শেষ পর্যন্ত উইন্ডোজ এক্সপিও অবসর গ্রহণ করেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। নির্মাতা মাইক্রোসফট আগেই জানিয়েছিল এ কথা। সেই অনুযায়ী চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উইন্ডোজ এক্সপিকে বন্ধ করে দেয় মাইক্রোসফট। এতে করে দীর্ঘ ১৩ বছরের রাজত্ব শেষে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় পিসি অপারেটিং সিস্টেমটি হারিয়ে গিয়েছে প্রযুক্তিবিশ্ব থেকে।

আইপড ক্লাসিক

আইপডের মডেলগুলোর মধ্যে আইপড ক্লাসিক বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে টাচ-নির্ভর এই যুগে এসে আর অ্যাপল আইপড ক্লাসিককে বয়ে বেড়াতে সক্ষম হয়নি। এর বদলে তারা মূলত এখন টাচ-নির্ভর আইপড ন্যানো এবং আইপড টাচকেই জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছে। যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে প্রযুক্তিটি বাতিল করে অ্যাপল।

মাইক্রোসফট অফিস ক্লিপআর্ট লাইব্রেরি

মাইক্রোসফট অফিসের বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য ক্লিপআর্ট বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্লিপআর্ট লাইব্রেরি চালু করে মাইক্রোসফট। তবে ধীরে ধীরে ইন্টারনেটের ব্যবহার প্রসার পেতে থাকলে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায় ক্লিপআর্টের। ফলে এই বছরের শেষ দিকে একে ক্লিপআর্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয় মাইক্রোসফট। এখন ক্লিপআর্টের বদলে এমএস অফিস ব্যবহারকারীরা বিং ইমেজ সার্চ ব্যবহার করতে পারবে।

প্লাজমা এইচডি টিভি

এক সময়কার ক্রেজ ছিল প্লাজমা টিভি। তবে এখনকার আল্ট্রা এইচডি টিভির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকা সম্ভব হয়নি প্লাজমা এইচডি টিভিগুলোর। টিভি নির্মাতাদের অনেকেই প্লাজমা টিভি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আগেই। গত বছরেও প্যানাসনিক প্লাজমা টিভি তৈরি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এ বছরে একইপথে হেঁটেছে এলজি। ফলে প্লাজমা টিভির বাজারে কেবল টিকে রয়েছে স্যামসাং। আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসলেও স্যামসাং আসলে প্লাজমা টিভি তৈরি করছে না।

পিএসপি

সনির গেম কনসোল প্লেস্টেশনের বহনযোগ্য সংস্করণ হিসেবে প্লেস্টেশন পোর্টেবল বা পিএসপি বাজারে আসে ২০০৪ সালে। দশ বছরে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউনিট বিক্রি হয়েছে পিএসপি। তারপরেও চলতি বছরে এসে পিএসপির উত্পাদন বন্ধ করে দিয়েছে সনি। বহনযোগ্য প্লেস্টেশন হিসেবে প্লেস্টেশন ভিটাতে বেশি মনোযোগী হতে গিয়েই মূলত পিএসপিকে অবসর গ্রহণ করতে হচ্ছে।

এমএসএন মেসেঞ্জার

উইন্ডোজ লাইভ মেসেঞ্জার নামেও সুপরিচিত এমএসএন ম্যাসেঞ্জার। মাইক্রোসফটের এই সেবাটিও দীর্ঘ ১৫ বছর সেবা প্রদানের পর অবসর গ্রহণ করেছে এই বছরে এসে। একদিকে মাইক্রোসফটের আউটলুক ইমেইলেই চ্যাটিংয়ের সুবিধা, অন্যদিকে স্কাইপ—এই দুই সেবার জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়াতেই আলাদাভাবে আরেকটি মেসেঞ্জার সেবাকে চালু রাখতে রাজি হয়নি মাইক্রোসফট। প্রথম প্রজন্মের এই মেসেঞ্জার সেবাটি তাই হারিয়ে গেল সবার কাছ থেকে।

মাইক্রোসফট-নকিয়া মোবাইল ফোন

ত্রিশ বছরের দীর্ঘ যাত্রার পর শেষ পর্যন্ত নকিয়া মোবাইল ব্র্যান্ডটিও হারিয়ে গেল প্রযুক্তিবিশ্ব থেকে। কয়েক বছর আগে মাইক্রোসফট ৭.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে কিনে নিয়েছে নকিয়ার মোবাইল ইউনিটকে। এর পরও নকিয়ার লুমিয়া ব্র্যান্ডের আওতায় কিছু ফোন বাজারে আসে। শেষের দিকে এসে মাইক্রোসফট সরাসরি মাইক্রোসফট লুমিয়া ব্র্যান্ডের আওতায় নিয়ে আসতে শুরু করে উইন্ডোজ ফোনগুলো। সম্প্রতি আবার নতুন করে বাজারে ফিরেছে নকিয়া।