বামনায় বুলবুলের প্রভাব

বিষখালী নদীতীরবর্তী এলাকা ভাঙনের কবলে

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ২১:২১

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পরবর্তী সময়ে বিষখালী নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বামনা উপজেলার পাশ দিয়ে বিষখালী নদীর তীরবর্তী চেচাঁন গ্রামের প্রায় আধা কিলোমিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দক্ষিণ রামনা এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার নদীতীর অব্যাহত ভাঙনের মুখে।

উল্লেখ্য, গত ১০ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বরগুনার বামনা উপজেলাসহ ১০টি জেলায় তাণ্ডব চালায়। এতে অনেক প্রাণহানি ঘটে। বামনা উপজেলায় প্রাণহানি না হলেও সহস্রাধিক কাঁচাঘর, রান্নাঘর, গোয়ালঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক শত মাছের ঘের তলিয়ে যায়। বিনষ্ট হয় পানের বরজ। আমন ও রবিশস্যের বীজতলা তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়।

এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বেড়িবাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হবে না। রামনা ফুলঝুড়ি খেয়াঘাটের রামনার এপারে যাত্রীছাউনি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দক্ষিণ কাকচিড়া, চলাভাঙ্গা, কালিকাবাড়ী, চেচাঁন, কাটাখালী ও পুরাতন বামনা এলাকায় ভাঙনের ফলে অনেক মানুষই গৃহহীন হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

কালিকাবাড়ী গ্রামের ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ এলাকার দিনমজুর আব্দুল হাকিম বলেন, ‘মোগো মোনে হয় কেহো দ্যাহেনা, মোগো ঘর-দুয়ার আর কয়দিন পর নদীতে খাইয়া হালাইবে।’ ভাঙনকবলিত রামনা হাজিবাড়িসংলগ্ন পাকা সড়কের পাশে হালিমা খাতুন বলেন, ‘মোরা কোম্মে থাকমু, আল্লাহ তুমি মোগো সাহায্য করো।’

এ ব্যাপারে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাউছার আলম জানান, এরই মধ্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। অচিরেই ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাবরিনা সুলতানা জানান, ‘আমি বামনা উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’