অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানে বাড়ে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪৬

 ‘জন্ম অধিকার সম্পর্কে জানুন’ শীর্ষক এক কর্মশালা ও আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান পরিহার এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে আয়োজিত কর্মশালায় সঞ্চালক ছিলেন হারস্টোরি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জেরীন মাহমুদ হোসেইন।

উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয় প্যানেল আলোচক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি. গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডা. সেলিনা আমিনের বক্তব্য দিয়ে। তিনি মিডওয়াইফারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তার মতে, দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে মিডওয়াইফারি সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একই অধিবেশনে প্যানেল আলোচক ছিলেন প্রাভা হেলথের গাইনি বিভাগের ডা. মারিহা চৌধুরী, ফিজিক্যাল হেল্থ অ্যান্ড ওয়েলনেস ক্লিনিকের (পিএইচডব্লিউসি) প্রধান ডা. নিসিম জান সাজিদ, দিনাজপুরের এলএএমবি হসপিটালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. বিট্রিস অ্যাম্বুইন বার্গার ও ইয়েলো ব্রিক রোডের কো-ফাউন্ডার ফারিন দৌলা।

বক্তারা সিজারিয়ানের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাদের ভাষায়, সমাজে এ ব্যবস্থা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বক্তারা বলেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান জীবনকে অনিরাপদ করে তোলে। তাই এ ব্যবস্থা পরিহার করা উচিত।

আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের বিষয়ে এখনো তথ্যের বিস্তর ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে শহরের শিক্ষিত সমাজের মধ্যে এ প্রবণতা আরো বেশি।

আলোচকরা বলেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান বন্ধে প্রচারণা চালানো গেলে দেশে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে কমে আসবে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের সংখ্যাও। আর জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য চিকিত্সক, গবেষক, অধিকারকর্মী, দাতাসংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম ছাড়াও অংশীজনদের একযোগে কাজ করতে হবে।

উল্লেখ্য, বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের ঘটনা ঘটেছে। যা বৃদ্ধির হার ৫১ শতাংশ। ঐ সমীক্ষায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর দেশে ৮ লাখ ৬০ হাজারটি অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে তিন লাখ মহিলার এ সংক্রান্ত ব্যয়ভার বহন করার সামর্থ্য ছিল না।

বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে ১০ লাখেরও বেশি সিজারিয়ান হয়ে থাকে। তার মধ্যে বেসরকারি খাতে অপারেশন হয়ে থাকে অন্তত সাড়ে ৭ লাখ। যদিও বাংলাদেশে প্রসবজনিত স্বাস্থ্যসেবা বেড়েছে তথাপি অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের হার বেড়ে যাওয়ায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিগত ছয় বছরে প্রসূতি মৃত্যুর হার কমেনি। বরং এ সময়ে পূর্বের মৃত্যুহার ২১ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ শতাংশ। একই সঙ্গে বেড়েছে ব্যয়। সবচেয়ে বড়ো কথা, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানে সংক্রমণের কারণে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।