দুই মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে বিআইডিএসের গবেষক সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার তদন্ত। তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এ সংক্রান্ত সময় আবেদন মঞ্জুর করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে—এই মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। চার জন আসামি গ্রেফতার হয়েছেন এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাহলে কেন সময় প্রয়োজন? রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, হাইকোর্টের লিখিত আদেশের অনুলিপি পেতে দেরি হওয়ায় তদন্তকারী সংস্থা আদালতের কাছে আরো দুই মাস সময় চেয়েছে। সময় পেলে তদন্ত দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। এরপরই হাইকোর্ট ঐ সময় মঞ্জুরের আদেশ দেয়।
এদিকে এই হত্যা মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) এর পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন পিপিএম ইত্তেফাককে বলেন, উচ্চ আদালত আমাদের সময় মঞ্জুর করেছে। আমরা এই সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারব।
১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে বড়ো মেয়ে সারাহাত সালমা চৌধুরীকে (৮) আনতে গিয়ে সিদ্ধেশ্বরীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সগিরা মোর্শেদ। ঐ হত্যা মামলায় ১৯৯১ সালের তত্কালীন ডিবি পুলিশ মিন্টু ওরফে মন্টু নামে এক আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এতে বলা হয়, ছিনতাইকারীর গুলিতে নিহত হন তিনি। মামলার বিচার চলাকালে মারুফ রেজা নামে এক ব্যক্তির নাম আসায় তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। ঐ আবেদনে ২৮ বছর মামলার বিচারকাজ স্থগিত হয়। চলতি বছর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়ে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। ঐ নির্দেশের পর পিবিআই ৫ মাস তদন্ত করে ৩১ বছর পর হত্যার রহস্য উম্মোচন করে। পিবিআই জানায়, ছিনতাই নয়, নিজ পরিবারের সদস্যদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনি দ্বারা সগিরা মোর্শেদকে হত্যা করা হয়েছিল। ঐ খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন নিহতের ভাসুর বারডেম হাসপাতালের চিকিত্সক ডা. হাসান আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীন। খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন মারুফ রেজা ও ডা. হাসানের শ্যালক আনাস মাহমুদ। এরই মধ্যে এই চার জনই ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
