ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আগামী ২৮ নভেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন।
এদিকে গতকাল যুক্তিতর্ক উপস্থান করে মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আদালতে বলেন, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম। নুসরাতের মৃত্যুর পর তা আলোচনায় আসে। যার কারণে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে নেয় পুলিশ প্রশাসন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা যেন মহিলাদের সঙ্গে সহনশীল আচরণ করেন সেই লক্ষ্য পূরণে এই মামলা করেছি। যৌন হয়রানির শিকার নুসরাত থানায় যাওয়ার পর ওসি মোয়াজ্জেম যে আচরণ করেছেন সেটা ওই ভিডিও ক্লিপে বেরিয়ে এসেছে। এই আচরণ কারো কাম্য হতে পারে না। অপরদিকে মোয়াজ্জেমের আইনজীবী তার বেকসুর খালাসের আবেদন জানান।
ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারা (অনুমতি ব্যতীত পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার, ইত্যাদির দণ্ড), ২৯ ধারা (মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, প্রচার, ইত্যাদি) এবং ৩১ ধারায় (আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, ইত্যাদির অপরাধ ও দণ্ড) মামলা করা হয়। এসব ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হতে পারেন বলে জানান আইনজীবীরা। আদালতে বাদী পক্ষে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম এবং আসামি পক্ষে ফারুক আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন।
গত ২৬ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হন শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। এ ঘটনায় নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন ওসি মেয়াজ্জেম। পরে তা আরেকজনের মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ব্যারিস্টার সুমন। ওই মামলায় পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্যের ভিডিও ধারণ ও প্রচার করেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেই। ইচ্ছাকৃতভাবে ওই ভিডিও প্রচার করে তিনি প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ভিডিও ভাইরাল হলে তা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে; যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারার অপরাধ।
ওসি মোয়াজ্জেমকে অভিযুক্ত করে গত ২৬ মে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বরখাস্তকৃত ওই ওসির বিরুদ্ধে গত ১৭ জুলাই অভিযোগ গঠন করেন। ৩১ জুলাই মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১২ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে নুসরাতের মা, ভাই ও দুই সহপাঠী জবানবন্দি দেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করা হয়।
