রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় কোহলি

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:০৮

অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার আগে ঠিক এমনই প্রস্তাব পেয়েছিল ভারত।

সফরের কয়েকদিন আগে তাদের অনুরোধ করা হয়েছিল একটা দিবারাত্রির টেস্ট খেলতে। কিন্তু অনুশীলন নেই বলে সেই প্রস্তাব ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। এবার ঠিক একই পরিস্থিতিতে ভারতের অনুরোধে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। তবে এবার কোহলি বলছেন, তারা গোলাপি বলের এই ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছেন। বিশেষ করে ইডেন গার্ডেন্সে যে উত্তেজনা দেখছেন, তাতে তিনিও রোমাঞ্চিত।

ভারত সর্বশেষ ইডেনে ম্যাচ খেলেছিল ২০১৬ সালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচের মতোই কিছু একটা আজ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন কোহলি। তিনি বলছিলেন, ‘এখানে (ইডেনে) ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি (২০১৬ বিশ্বকাপ) খেলার আগে যেমন অনুভূতি হচ্ছিল, এখনো সেরকম অনুভূতি হচ্ছে। আমরা নিজেরা এই গোলাপি বল নিয়ে রোমাঞ্চিত। শেষবার এখানে যখন খেলেছিলাম, বিশাল একটা উত্তেজনা ছিল। সেটা ছিল ভারত-পাকিস্তান বিশ্বকাপের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সে সময়ও অনেক ভিআইপি এসেছিলেন। স্টেডিয়াম একেবারে ভরা ছিল। আমার মনে হয় পরিবেশ একই রকম থাকবে।’

তবে ভারতীয় অধিনায়ক মনে করেন, ঠিক আদর্শ অবস্থায় দুই দল গোলাপি বলের টেস্ট খেলতে নামছে না। এই ম্যাচ খেলার আগে একটা অনুশীলন ম্যাচ খেলা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি, ‘দুই টেস্টের মধ্যে একটা বড়ো বিরতি থাকলে সেটা আদর্শ হতো। এই পিংক বল টেস্ট খেলার আগে এই বলে একটা অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো। যাই হোক, আমরা এই অভিজ্ঞতাটা পেতে চাচ্ছিলাম। অবশেষে সেই অভিজ্ঞতাটা হতে যাচ্ছে।’

সবমিলিয়ে কোহলি অবশ্য মনে করেন, গোলাপি বল নিয়ে যে সংকট, সেটা এখানকার দর্শকের সমর্থনে কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা। নিজের দলের সুবিধা নিয়ে বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা খুব সমর্থন পাবেন। বোলাররাও রান আপের প্রান্তে দাঁড়ালে দর্শকের উত্সাহ পাবেন। বিশেষ করে গোলাপি বলে খেলাটা যখন সহজ না, সেখানে এই ধরনের সমর্থন একটা প্রেরণা হবে। আমার মনে হয় খেলার প্রথম এক ঘণ্টা খুব রোমাঞ্চকর হবে।’

সবসময়ই ক্লাসিক ঘরানার টেস্টের ভক্ত কোহলি। তিনি বলছেন, টেস্টকে আকর্ষণীয় করার একমাত্র উপায় এই দিবারাত্রির টেস্ট হতে পারে না। তিনি টেস্টের মূল আবেদনটাই ঠিক রাখার পক্ষে বলছিলেন, ‘আমার মতে এটাই টেস্ট ক্রিকেট খেলার একমাত্র পদ্ধতি হওয়া উচিত হবে না। টেস্টের সকালের যে নার্ভাসনেস থাকে, সেটা হারিয়ে যাবে তাহলে। এতে (দিবারাত্রির ম্যাচে) আপনি টেস্ট খেলায় একটা রোমাঞ্চ আনতে পারবেন। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটকে পুরোপুরি লোকেদের বিনোদন বানিয়ে ফেলাটা ঠিক না। টেস্ট ক্রিকেটের বিনোদন হলো যে, একজন ব্যাটসম্যান প্রথম সেশন পার করার চেষ্টা করছে বা একজন বোলার একজন ব্যাটসম্যানকে আউট করার জন্য সাজাচ্ছে। লোকেরা এতে মজা না পেলে সেটা তো খারাপ।’